জলে ভেজা যত্নের ভাষ্য

ত্বকের যত্নে নানা রকম প্রসাধনী ব্যবহার করি আমরা। কেউ ময়শ্চারাইজারে ভরসা করেন, কেউ বা টোনারে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, একেক ধরনের পানি যেমন রোজ ওয়াটার, মাইসেলার ওয়াটার, সিওয়াটার বা ডাবের পানি ত্বকের জন্য কতটা উপকারী হতে পারে। এই পানিগুলোর রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এগুলো শুধু ত্বক পরিষ্কার রাখে না বরং বাড়ায় উজ্জ্বলতা, কমায় র্যাশ কিংবা ব্রণ, এমনকি জোগায় বাড়তি আর্দ্রতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রূপচর্চায় কোন পানি কতটা কার্যকর।
মাইসেলার ওয়াটার
মাইসেলার ওয়াটারের উৎপত্তি ফ্রান্সে। দেশটির কঠিন পানির কারণে ত্বকে জ্বালাভাব ও রুক্ষতা দেখা যেত। তাই তৈরি হয় এই সোপ-ফ্রি, কেমিক্যালবিহীন ক্লিনজার। এতে থাকা ছোট ছোট তেলের অণু ‘মাইসেলস’ ময়লা, মেকআপ ও ধুলাবালিকে টেনে বের করে নেয়। ধোয়ার প্রয়োজন হয় না বলে এটি ট্রাভেল ফ্রেন্ডলি এবং ব্যবহারে সময় বাঁচে। রাতে ঘুমানোর আগে বা হালকা ক্লিনজিংয়ের সময় এটি দারুণ কার্যকর। শুধু তুলায় নিয়ে মুখ মুছে নিলেই ত্বক হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও সতেজ।

গ্লেসিয়াল ওয়াটার
হিমবাহ থেকে প্রাকৃতিকভাবে ফিল্টার হয়ে আসা গ্লেসিয়াল ওয়াটার শতাব্দীর পুরোনো পরিস্রুত পানি। এতে রয়েছে মিনারেলস। এই মিনারেলস ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স রক্ষা করে এবং স্পর্শকাতর ত্বকে আরাম এনে দেয়। র্যাশ, চুলকানি বা অ্যালার্জির মতো সমস্যায় এটি আরামদায়ক হতে পারে। বিউটি প্রোডাক্ট তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয় দূষণমুক্ত বেইজ হিসেবে।
ডাবের পানি
ডাবের পানি শুধু পানীয় নয় বরং ত্বকচর্চার দারুণ এক উপাদান। এতে রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এটি ত্বককে তেলতেলে না করেই আর্দ্রতা দেয়। মুখে ফেশিয়াল টোনার হিসেবে বা সরাসরি স্প্রে করে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ দেখায়। আবার গোসলের পানিতে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়। এমনকি চুলে কন্ডিশনার হিসেবেও দারুণ কাজ করে ডাবের পানি।
রোজ ওয়াটার
রোজ ওয়াটারের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের লালচে ভাব কমায় ও আরাম দেয়। রোজ ওয়াটার স্প্রে করে কিংবা তুলায় নিয়ে ব্যবহার করা যায়। মুখ কিংবা চুলে সব জায়গায়ই এটি আর্দ্রতা জোগায় ও সতেজতা ফিরিয়ে আনে।
সিওয়াটার
সমুদ্রের পানি বিশেষ করে মৃত সাগরের পানি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ত্বকে ব্রণের প্রবণতা কমায়, র্যাশ কমাতে সাহায্য করে এবং নতুন কোষ তৈরি করে। বাথ সল্ট, ফেসওয়াশ, টোনার, মাস্ক বা ময়শ্চারাইজার তৈরিতে সিওয়াটার ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু ত্বক নয়, চুলের জন্যও কার্যকর।
থারমাল স্প্রিং ওয়াটার
পাহাড়ি অঞ্চলের তলদেশে জমে থাকা পানি দীর্ঘ সময় ধরে জীবাণুমুক্তভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই থার্মাল স্প্রিং ওয়াটার নানা ধরনের মিনারেলে ভরপুর যা ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং সারিয়ে তোলে। একজিমা, সোরায়সিস বা রোজাশিয়ার মতো সমস্যার সমাধানেও এটি কার্যকর। বাজারে এই পানির উপাদানে তৈরি স্প্রে, সেরাম বা ক্রিম পাওয়া যায় যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
পানি অপর নাম জীবন। এই কথাটি শুধু শরীরের জন্য নয়, ত্বকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নানা ধরনের প্রাকৃতিক পানি ত্বকের যত্নে আনতে পারে নতুন মাত্রা। তবে যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পানি বেছে নিলে ত্বক যেমন থাকবে পরিষ্কার, তেমনই হবে আরও উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।



