মোবাইল ফোন আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে

আজকাল আমাদের জীবনে মোবাইল ফোন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, অনেক সময় মনে হয় এটি ছাড়া চলাই যায় না। বাসে, রাস্তায়, ক্যাফেতে সব জায়গাতেই দেখা যায়, সবাই স্ক্রিনে ডুবে আছে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাতেও ফোনই হয়ে উঠছে মূল বিনোদনের মাধ্যম। ফলে মুখোমুখি গল্পগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে আমাদের প্রয়োজনীয়। কিন্তু মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন মানুষ দিনে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এভাবে নিরবচ্ছিন্ন স্ক্রিনে ডুবে থাকা মানেই আসক্তি। তাই বিশেষজ্ঞরা এর সমাধানে দিয়েছেন চার ধাপের একটি কৌশল TIME পদ্ধতি।

T = Time (সময় নির্ধারণ করুন)
আমরা যখন খুশি, তখনই মোবাইল ব্যবহার করি। এর ফলে অজান্তেই সময় নষ্ট হয়। তাই আগে থেকে ঠিক করুন, কোন কাজে কত সময় দেবেন। যেমন ইমেইল চেক করতে ২০ মিনিট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ১০ মিনিট। চাইলে টাইমার ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া ফোনের স্ক্রিন টাইম ফিচার বা অ্যাপ দিয়ে সাপ্তাহিক ব্যবহারের হিসাব রাখুন। এতে বুঝতে পারবেন, কোথায় বেশি সময় অপচয় হচ্ছে।
I = Intention (উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যবহার)
ফোন হাতে নেওয়ার আগে ভেবে দেখুন, আসল উদ্দেশ্য কী। খবর পড়া, বন্ধুর খোঁজ নেওয়া বা তথ্য জানার জন্য সময় ব্যয় করলে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রল করতে থাকেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন “এতে আমার আসলেই কোনো উপকার হচ্ছে?” যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে সেই ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
M = Mindfulness (সচেতনভাবে ব্যবহার)
মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বিজ্ঞাপন বা নোটিফিকেশনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলা বা সময় অপচয় করা খুব সহজ। তাই ফোন ব্যবহার করার সময় সচেতন থাকুন। চেষ্টা করুন বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগী থাকতে এবং নিজের প্রয়োজনের বাইরে যেন না যান।
E = Experience (অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখুন)
প্রতিবার মোবাইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করুন। ভাবুন, এটি কি আপনাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে বা কারও সঙ্গে অর্থবহ যোগাযোগ করিয়েছে? নাকি কেবল সময় নষ্ট হয়েছে? যদি উপকার না মেলে তবে পরবর্তীবার সেই কাজে সময় নষ্ট করবেন না।
আসক্তি কমানোর কিছু সহজ উপায়
- বাড়ির অন্তত একটি ঘর প্রযুক্তিমুক্ত রাখুন।* বই পড়া, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা শখের কাজে সময় দিন।
- একই সময়ে একটিই ডিভাইস ব্যবহার করুন। টিভি দেখবেন নাকি ফোন ব্যবহার করবেন, আগে ঠিক করুন।
- পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন পাশে রাখবেন না।
- ঘুমানোর আগে ফোন বন্ধ রাখুন এবং এমন কিছু করুন যাতে প্রযুক্তির ব্যবহার না হয়।
মনে রাখবেন, মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অংশ, জীবন নয়। সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটি হবে জীবনের সহায়ক, আসক্তি নয়।



