যে পাঁচটি তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবক্সে ইনপুট দেবেন না

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্য খোঁজা, লেখালেখি, পরিকল্পনা তৈরি কিংবা নানা সমস্যার সমাধানে অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করছেন চ্যাটজিপিটি, জেমিনি কিংবা অন্যান্য এআইভিত্তিক চ্যাটবট। তবে সুবিধার পাশাপাশি এর ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগও। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসাবধানতাবশত অনেক ব্যবহারকারী এমন কিছু তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই সংরক্ষিত থাকে এবং সিস্টেম উন্নয়ন বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে নিচের পাঁচ ধরনের তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবক্সে দেওয়া উচিত নয়।

পাসওয়ার্ড, ওটিপি ও নিরাপত্তা কোড
ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা পিন কখনোই এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ব্যাংক ও আর্থিক তথ্য
অনেকে আর্থিক পরিকল্পনা বা বাজেট তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নেন। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য, আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত কিংবা অন্যান্য গোপন অর্থনৈতিক তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
অফিসের গোপন নথি ও সোর্স কোড
কর্মক্ষেত্রের গোপন ডকুমেন্ট, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, চুক্তিপত্র বা সফটওয়্যারের সোর্স কোড এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। এ কারণে বিশ্বের অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের এ ধরনের তথ্য চ্যাটবটে ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্টের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি বা মেডিকেল রিপোর্টের মতো স্পর্শকাতর তথ্য শেয়ার করা পরিচয় জালিয়াতি ও ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্যক্তিগত সংকট ও আইনি জটিলতার বিস্তারিত তথ্য
পারিবারিক বিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ এসব তথ্যের গোপনীয়তা সবসময় নিশ্চিত নাও থাকতে পারে।
নিরাপদ থাকার সহজ নিয়ম
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ নীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন- যে তথ্য আপনি কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না, সেই তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবটের কাছেও প্রকাশ করবেন না।
এ ছাড়া এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আগে এর গোপনীয়তা নীতিমালা ও প্রাইভেসি সেটিংস দেখে নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চ্যাট হিস্ট্রি প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করে দিতে পারেন। প্রযুক্তির সুবিধা নিতে হলে সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর।



