১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

ডিহাইড্রেশন থেকে দুরে থাকতে

IMG_1967

ডিহাইড্রেশন শব্দটা শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে পানির কথা। পানিশূন্যতাকেই ডিহাইড্রেশন হিসেবে চিনি আমরা। তবে ডিহাইড্রেশন শুধু পানিশূন্যতা নয়  লবণশূন্যতাও বোঝায়। আর এই পানিশূন্যতা বেশি হয় প্রচন্ড গরমে। ডিহাইড্রেশন অনেক রোগের কারণ হয়ে দারাতে পারে তা গরমে আপনাকে হাইড্রেটেড থাকতে হবে। এই মূহূর্তে চলছে গ্রীষ্মের খরতাপ, এই গরমে পানি খেয়েও স্বস্তি মিলে না। গরম যত বাড়ে শরীরে ততই পানিশূন্যতা বাড়ে। রোদে বের হলে তো কথা-ই নেই, এই তাপে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পানিশূন্যতা গুরুতর হয়ে গেলে মাথাটা ঘোরানো, অজ্ঞান হয়ে পড়া, শ্বাস – প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া, ঘন ঘন বমি হওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়। 

এই গরমে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে হলে যা করণীয়, তা হলো এর লক্ষণ দেখা দিলেই পানি পান করা বা পানির ঘাটতি পূরণ করে এ জাতীয় জুস বা পানীয় পান করা। 

ডিহাইড্রেশনের প্রাইমারি লক্ষণগুলো হলঃ অতিরিক্ত গলা শুকিয়ে যায়, ক্লান্তি লাগে, আচ্ছন্ন হয়ে থাকে শরীর, খিদে কমে যায়, মাথা ব্যথা শুরু হয়, প্রস্রাব লাল হয়ে যায়, ত্বক শুকিয়ে যায়, অতিরিক্ত ঘেমে যায়। সাধারণত ঘামের সঙ্গে পানি বেরিয়ে গিয়ে অথবা প্রচন্ড গরমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে শরীরে এই পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই এমন কিছু পানীয় রয়েছে যেগুলো আপনাকে গ্রহণ করতে হবে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করবে। 

এই গরমে পানি আপনার সাথে সবসময় সাথে রাখুন। দৈনিক ১৫ থেকে ১৮ বা ২০ গ্লাস পানি পান করুন। শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে একমাত্র পানি-ই। তবে এই পানির সাথে কিছু জিনিস যোগ করে পানিকে আরও বুস্ট করা যায় পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে বা হাইড্রেটেড থাকতে। আসুন জেনে নি এমন কিছু পানীয় সম্পর্কে যেগুলো আপনাকে হাইড্রেটেড রাখবে এই গরমে।

ডিটক্স ওয়াটার 

প্রথমেই বলা যাক ডিটক্স ওয়াটার যেটায় থাকে চিয়া সিড, সসা, লেবু এবং পুদিনা পাতা। এটি শুধু আপনাকে পানিশুন্যতা থেকেই বাঁচাবে না সাথে আপনার ওজন কমাতেও ব্যাপক সাহায্য করবে। এটি শরীরে জমে থাকা টক্সিন উপাদান খুব সহজেই বের করে দেয়। শরীর থেকে দূষিত উপাদান বের করে দেওয়ার মাধ্যমে শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডিটক্স ওয়াটার খেলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয় এবং সতেজতা আসে। কারণ এটি শরীরে রক্ত, পানি ও পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও ত্বকের দাগ দূর করা, ত্বক মসৃণ করা, ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisements

এর সসা ও পুদিনাপাতা আপনার শরীরকে সারাদিন ঠান্ডা রাখবে। লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন সি, যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও উদ্দীপনা জোগায় আপনার শরীরে। আর এর চিয়া সিড খুবই পুষ্টিকর এই উদ্ভিদের বীজ শরীরে শক্তি জোগায়।

যেভাবে তৈরি করবেন, একটি এক লিটারের পানির বোতলে পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে দিন সাথে ৬/৭ টুকরা লেবুর পাতলা স্লাইসও দিয়ে দিন, একটি ছোট সসা পাতলা স্লাইস করে দিন, ২ চামচ চিয়া সিড এবং ৫/৬ টা পুদিনাপাতা যোগ করে ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলেই তৈরি আপনার ডিটক্স ওয়াটার। তারপর সারাদিনে একটু একটু করে গ্রহণ করুন। 

গ্রিন টি 

শুনেই চমকে গেছেন হয়তবা, যে গরমে আবার চা। না গ্রিন টি টা আপনি বাহিরে নয় বাসায় এসে গ্রহণ করুন। এর উপকারিতা আপনাকে তাৎখনিক দিবে না অর্থাৎ একবার খেয়ে সারাদিন চাঙ্গা থাকুন। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর গ্রিন টি আপনার ত্বকে যে কোনো ধরনের প্রদাহ দূর করে। শরীর থেকে টক্সিন দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। গ্রিন টির উপকার বলে শেষ করার মতো নয়। 

যেভাবে তৈরি করবেন, গরম পানি করুন গরম পানিতেই গ্রিন টি-এর প্যাকেট টি ছিরে দিয়ে দিন। টি ফুটলে ছেঁকে একটি কাপ -এ নিন সাথে লেবুর রস যোগ করুন এবং স্বাদের জন্য ২চামচ মধু যোগ করুন। 

বিট রুট ও গাজরের জুস

এটিও একধরনের ডিটক্স ওয়াটার। এতে রয়েছে গাজরের রস যা হল ভিটামিন-এর প্রাকৃতিক উৎস। এবং রয়েছে সুপারফুডও বিটরুট যা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর। আয়রন, জিংক, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি ইত্যাদি উপাদান আছে এতে। এতে আরও রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা আপনাকে পানিশূন্যতা থেকে ১০ হাত দূরে রাখবে। বিটরুটের জুস খেলে শরীরের টক্সিন দূর হয় সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। 

যেভাবে তৈরি করবেন, বিটরুট ও গাজর ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে পাতলা পাতলা স্লাইস করুন। এরপর এক লিটারের পানিতে ১টি লেবুর রস দিয়ে বিটরুট ও গাগরের স্লাইস দিন সাথে ২-৩ চামচ মধু যোগ করুন। তারপর ফ্রিজে ২ ঘন্টার জন্য রেখে দিন। এরপর বের করে পান করুন। দেখবেন সারাদিন আপনি আর ডিহাইড্রেশনে পরছেন না। 

তোকমা ও পুদিনা পানি

শরীর ঠান্ডা রাখার আরেকটি পানীয় হলো এটি।  তোকমা বীজটি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। যা শরীরের পানির মাত্রা পূরণ করে ব্যাপক। আমাদের হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে তোকমার শরবত। তোকমায় থাকা ফাইবার কার্ডিওভাসকুলার রোগ, কোলোরেক্টাল ক্যানসার এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। তোকমা পানিশূন্যতায় ব্যপক কাজে দেয়। 

যেভাবে তৈরি করবেন, তোকমা খাওয়ার ১ ঘন্টা আগে ভিজি রাখতে হয়। ১ গ্লাস পানিতে তোকমা ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘন্টার জন্য। পরে হাফ লিটার পানিতে লেবুর রস ও ৪-৫ টি পুদিনার পাতা ও ভিজিয়ে রাখা তোকমা যোগ করে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে নিন। ব্যাস তৈরি আপনার সবচেয়ে কার্যকরী হাইড্রেটেড পানীয়।

অ্যালোভেরা জুস

গরমে অ্যালোভেরার রস খুবই উপকারী। এককথায় এটি শরীরকে অনেক ঠান্ডা রাখে। এই গাছ অনেক ঔষধি গুণসম্পন্ন। ভেষজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটিতে প্রায় ২০ ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে। ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, ক্রোমিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার, ও ম্যাংগানিজ ইত্যাদি ভালো পরিমাণে রয়েছে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন এ, সি, ই এবং ভিটামিন বি১, বি২, বি৩,বি৬,ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে। শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক সব অ্যামাইনো এসিডসহ প্রায় ১৮ থেকে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। এ ছাড়াও ফলিক এসিড, কোলিন, ফ্যাটি এসিড ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে। এটির ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে। সুগারের মাত্রা ব্যালেন্স করতে পরলে সেসব খাবার পানিশূন্যতা থেকে এমনিতেই রক্ষা করে। দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা। যেবাবে খাবেন, অ্যালোভেরা ২ ভাবে খাওয়া যায় কিউব করে কেটেও খাওয়া যায় আবার জুস বানিয়েও খাওয়া যায়। তবে জুস বানিয়ে খাওয়াই ভালো কেননা অ্যালোভেরা অনেকেই খেতে পারেন না এর তেতো ভাবের কারণে আবার অনেকে এর থকথকে ভাব দেখেও খেতে পারে না। তাই এটি কেটে একটি মগে নিয়ে একটু পানির সাথে ভালোভাবে ফেটে তরল করে নিন সাথে গুর যোগ করুন। গুর যোগ করার ফলে এর তেতো ভাবটা কমে যাবে।

Advertisements