১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

মাসে দুবার পিরিয়ড চিন্তার কারণ নাকি স্বাভাবিক বিষয়?

120-SM989777

নারীদের জীবনে মাসিকচক্র একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাধারণত গড়ে ২৮ দিনে একবার পিরিয়ড হয়। তবে এই সময়সীমা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। কেউ ২১ দিনে, আবার কেউ ৩৫ দিনেও পিরিয়ডে আসতে পারেন। তাই এক মাসে দুবার মাসিক হওয়া সবসময় অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কখন এটি স্বাভাবিক, আর কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি?

কেন মাসে দুবার পিরিয়ড হতে পারে?

  • মাসিকচক্র যদি ২১ দিনে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এক মাসে দুবার পিরিয়ড হতে পারে।
  • হরমোনের তারতম্য (যেমন থাইরয়েড সমস্যা বা ইস্ট্রোজেন-প্রোজেস্টেরনের অসামঞ্জস্য) থাকলে চক্র ছোট হতে পারে।
  • জরায়ুতে ফাইব্রয়েড, পলিপ, সংক্রমণ বা প্রদাহ থাকলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) অনেক সময় চক্রকে অনিয়মিত করে দেয়।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, ভারী ব্যায়াম বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণেও মাসিকচক্রে গোলমাল হতে পারে।
  • কৈশোরে মাসিক শুরুর পর বা মেনোপজের আগে চক্র স্বাভাবিকভাবেই এলোমেলো হতে পারে।

২১ দিনের পর পিরিয়ড হওয়া স্বাভাবিক। তবে আগে সব ঠিক থাকলেও হঠাৎ করে নিয়মিতভাবে সময়ের ব্যবধান কমে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। আর ২১ দিনের আগেই মাসিক হলে সেটি অবশ্যই নজরে আনার মতো বিষয়।পিরিয়ড যত দিন পরপরই হোক, নিচের উপসর্গগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ৭ দিনের বেশি সময় ধরে চলা মাসিক, দুই পিরিয়ডের মাঝেও রক্তক্ষরণ হওয়া, তলপেটে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

এসব উপসর্গ অবহেলা করলে রক্তশূন্যতা মারাত্মক আকার নিতে পারে এবং জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।চিকিৎসক প্রথমে কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আয়রন সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে। আর যদি পেছনে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, সেটিরও সমাধান করা জরুরি।

অনেক সময় পিরিয়ড ছাড়াও সামান্য রক্ত যেতে পারে, যাকে স্পটিং বলা হয়। যেমন ডিম্বাণু বের হওয়ার সময় (ওভুলেশন), গর্ভধারণের শুরুতে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া বাদ পড়লে। এসব ক্ষেত্রেও সাধারণত দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে যদি অস্বাভাবিকভাবে নিয়মিত হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।মাসে দুবার পিরিয়ড সবসময় ভয় পাওয়ার মতো বিষয় নয়। তবে এর পেছনে কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা লুকিয়ে আছে কি না, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Advertisements