নতুন মা-য়ের রঙিন অন্দর

গর্ভধারণ কোনো একক অভিজ্ঞতা নয় এটি শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক আবেগিক পরিবেশগত এক নতুন অভিযাত্রা। তবে এই যাত্রার অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে আমাদের অন্দর। কেননা এই অবস্থায় পারিপার্শ্বিক পরিবেশের একটা প্রভাব খুব দ্রুত শরীরের উপর পড়ে।
অন্দর আমাদেরকে মানসিক শান্তি ও স্বস্তি দিয়ে থাকে। আমাদের নিঃশ্বাস নেওয়া, আবেগ-অনুভূতি, দুঃখ-কষ্ট, হাসি-আনন্দ সবকিছুর অন্যতম একটি স্থান হচ্ছে অন্দর।
তাই এই অবস্থায় অবশ্যই প্রয়োজন অন্দরের পরিবর্তন। যেই পরিবর্তন একটি সুস্থ সুন্দর প্রভাব ফেলে গর্ভাবস্থায়। এ পরিবর্তনগুলি খুবই সহজ ও সাবলীল। যা দেখতে দৃষ্টিনন্দন আকর্ষণীয় ও সুন্দর।
নতুন রঙে অন্দর
ঘর সজ্জার একটি অন্যতম উপাদান হলো ঘরের রং। ঘরের ঠিকঠাক রং কিন্তু মনকে শান্ত করে। আবার মনের ওপর চাপও কমায়। তবে ঘরে ভুল রং ব্যবহারে হিতে বিপরীত হতে পারে। দেখবেন ঘরে প্রবেশের পর কেমন অবসাদগ্রস্ত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লাগছে কিংবা মনের ওপর চাপ পড়ছে। খুব হালকা একরঙা টোনের রংকে বেজ রংও বলা হয়। যে ঘরে আপনি বেশি সময় থাকবেন, সেখানে এমন রং দেওয়া উচিত। যেমন শোবার ঘর। হালকা রঙের ঘরকে আলো–বাতাসে ভরপুর আর আরামদায়ক মনে হয়। চোখে, মনে প্রশান্তি দেয়। আপনার যে রং পছন্দ, সেটার হালকা শেড ব্যবহার করতে পারেন। ঘরকে করে তুলুন স্বস্তিদায়ক। নতুন রঙের সঙ্গে দেয়ালে আলপনাও এঁকে নিতে পারেন।

কুশন কাভারে আসুক পরিবর্তন
এই সময় আরামের জন্য বাড়তি বালিশের দরকার হয়। তাই বাড়তি বালিশের জায়গায় আমরা কুশন ব্যবহার করতে পারি। ঘরের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কুশন কাভারগুলো বেছে নিতে পারেন। বাজারে কুশনের সাইজেও আছে নানা রকমফের। দুটো কুশন যদি সাইজে বড় হয় তাহলে বাকিগুলো কিনে নিন ছোট সাইজের। বাজারে পাওয়া যায় গোল থেকে শুরু করে হার্ট শেপের কুশন। সোফায় বা বিছানায় এমন নানা ধরনের কুশন বেশ মানায়। এবার কুশন কাভারের রংটাও বাছাই করুন উজ্জ্বল বর্ণের। সহজেই সোফার সঙ্গে মানিয়ে যাবে উজ্জ্বল রঙের কুশনটি।
শতরঞ্জি অথবা কার্পেট বদল
ঘরের মেঝে সবচেয়ে অবহেলিত অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আপনি চাইলে এই মেঝে সহজেই সাজিয়ে ফেলতে পারেন। উজ্জ্বল রঙের আলপনাগুলো ঘর আলোকিত করে রাখে। এছাড়া নানা নকশার কার্পেট তো আছেই বাজারে। ঘরের সঙ্গে মিলিয়ে যেকোনো নকশার কার্পেট নিয়ে আসুন। ব্যস ঘরের চেহারা বদলে যাবে। আপনি যদি কার্পেট ব্যবহার না করতে চান, সেক্ষেত্রে শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। শতরঞ্জি একদিকে যেমন আধুনিক, তেমনি পাবেন ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
ওয়াল আর্ট কিংবা ওয়ালপেপার
ওয়ালপেপার একটা চমৎকার উপায় ঘরের ভেতরটা বদলে ফেলার। এই সময়তে ছোট বাচ্চাদের আর ঘরে লাগিয়ে রাখলে মন বেশ ফুরফুরে লাগে। চাইলেই ঘরের সম্পূর্ণ দেয়াল রাঙিয়ে নিতে পারেন কিংবা শুধু এক পাশের দেয়াল রাঙিয়ে নিতে পারেন। অথবা শুধু দেয়ালের কিছু অংশও ওয়ালপেপার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ধরুন ঘরের তিন দিকের দেয়াল এক রঙের আর বাকি একপাশের দেয়ালে ওয়ালপেপার লাগানো। পুরো ঘর কিন্তু বেশ ছিমছাম দেখাবে। অন্যদিকে আপনার যদি গাছগাছালির ছবি ভালো লাগে তাহলে ঘরে গাছগাছালির নানারকম নকশা ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের ভেতর যদি প্রকৃতি ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তো ঘরের সৌন্দর্য বেড়ে দ্বিগুণ।

ডেকোরেটিং লাইট
লাইটের ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকতে হবে। খুব কড়া ধাঁচের আলো যাতে এই সময় ঘরে লাগানো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত আলোকরশ্মি গর্ভাবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। লাইটের রংটায় একটু ওয়ার্ম হলে বেশ আরাম লাগবে এবং মনে শান্তিও লাগবে। ঘরে সোনালি বা সাদা আলো বেশ মানাবে। এখন বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের বাহারি বাতি, যেমন স্ট্রিং লাইট। এগুলো পছন্দমতো আকৃতির বাছাই করে নিয়ে ঘর সাজিয়ে নিতে পারেন। দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগে।
ঘরের কর্নার
নতুন অতিথির কথা চিন্তা করে ঘরের একটি কর্নার সাজাতে পারেন। মূলত এই কর্নারটি আপনার চোখে এবং মনে শান্তি দেবে। এই কর্নারটি পুরোটাই ছোট সোনামণিকে কেন্দ্র করে থাকবে। এই কর্নারটিতে থাকতে পারে ছোট ছোট পুতুল, ছোট ছোট কিছু টেডিবিয়ার, আর নানান ধরনের বাচ্চাদের খেলনা। পাশে দিয়ে ল্যাম্প বা আর্টিফিশিয়াল গাছ লাগাতে পারেন।
টেবিলে রাখুন সতেজ ফুল
একগুচ্ছ ফুল রাখুন ঘরের ভেতর। ফুল মন ভালো রাখে ফুলের সুবাসে ঘর যখন সুভাষিত হবে তখন মনে শান্তি অনুভব হবে। এমন কাউকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কি না ফুল ভালোবাসে না। নতুন বছরকে বরণ করতে ঘরের ভেতর সতেজ একগুচ্ছ ফুল কিন্তু উৎসবের আমেজ আরও বহু অংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই পছন্দমতো ফুল বাজার থেকে এনে ঘরের ভেতর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন।
ঘরকে রঙিনভাবে রঙিন করে সাজান। শুধু পরিপাটি ঘর নয়, এই ঘর হয়ে ওঠে অনুভূতির প্রতিফলন, প্রয়োজনের প্রতিস্বর এবং ভালোবাসার ঠিকানা। সেখানে থাকে যত্ন, প্রস্তুতি, আবেগ, ক্লান্তি আর আনন্দের রঙ। আজকের নতুন মায়েরা ঠিক সেইভাবেই সাজিয়ে নিচ্ছেন তাদের অন্দর যা তাদের মানসিক শান্তি ও শিশুর নিরাপত্তার এক মিলিত পরিসর।



