ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য, রিংকু–প্রিয়ার বাস্তব সম্পর্কের রূপকথা

একজন আইপিএল তারকা ক্রিকেটার, যিনি ভারত জাতীয় দলেও সুযোগ পেয়েছেন। অন্যজন তরুণ রাজনীতিবিদ, ২৫ বছর বয়সেই লোকসভায় পৌঁছে যাওয়া সংসদ সদস্য। কথা হচ্ছে রিংকু সিং ও প্রিয়া সরোজকে নিয়ে। উত্তর প্রদেশের ভিন্ন দুই জেলার এই তরুণ-তরুণী গত জুনে বাগ্দান সম্পন্ন করেছেন।
রিংকু আলোচনায় আসেন ২০২৩ সালের আইপিএলে—শেষ পাঁচ বলে টানা পাঁচ ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতানোর পর রাতারাতি হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় ক্রিকেটার। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাণসির মাছলিশহর আসন থেকে জয়ী হয়ে ভারতের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ এমপি হন প্রিয়া।
অনেকে ধারণা করেছিলেন, হয়তো ক্রিকেটার ও সাংসদ হওয়ার পর তাঁদের পরিচয় ঘটেছে। কিন্তু সত্যিটা ভিন্ন। তাঁদের প্রথম যোগাযোগের সময় দুজনই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না। আর সেই পরিচয়ের সূচনা কোনো অনুষ্ঠান বা পরিচিতজনের মাধ্যমে নয়, শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সম্প্রতি নিউজ ২৪ স্পোর্টস-এর এক সাক্ষাৎকারে রিংকু সেই স্মৃতি শেয়ার করেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে করোনা পরিস্থিতিতে আইপিএল চলছিল মুম্বাইয়ে। তখন তাঁর ফ্যান পেজে প্রিয়ার একটি ছবি পোস্ট করা হয়। প্রিয়ার গ্রামে ভোট হচ্ছিল, আর সেটি নিয়েই পোস্টটি করা হয়েছিল। সেই ছবিই প্রথমবার রিংকুর নজর কাড়ে। প্রথমে মেসেজ করতে দ্বিধায় ছিলেন রিংকু, কিন্তু পরে প্রিয়ার পক্ষ থেকে লাইক আসার পর সাহস করে যোগাযোগ করেন। প্রিয়াও সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের কথোপকথন, আর ধীরে ধীরে জন্ম নেয় প্রেম।

রিংকুর ভাষায়, “প্রথম দিকে প্রতিদিনই কথা হতো। ম্যাচে যাওয়ার আগেও কথা বলতাম। সেই ২০২২ সালেই আমাদের মধ্যে প্রেমের অনুভূতি তৈরি হয়।”
প্রিয়ার রাজনীতি ছিল পারিবারিক উত্তরাধিকার। তাঁর বাবা তুফান সরোজ তিনবারের এমপি ছিলেন। সেই পথ ধরেই কন্যা প্রিয়া প্রার্থী হন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় রিংকু যুক্তরাষ্ট্রে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে ছিলেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার রাতের অভিজ্ঞতা মনে করে তিনি বলেন, “আমি তখন নিউইয়র্কে। ওর জয় শুনে ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। ওর বয়স তখন মাত্র ২৫, এরকম সময়ে সংসদে পৌঁছানো দারুণ ব্যাপার।”
তবে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁদের সম্পর্কে একটু পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কথা হলেও এখন কাজের ব্যস্ততায় প্রিয়া সারা দিনে সময় দিতে পারেন না। রিংকু বলেন, “এখন দিনে তেমন কথা হয় না, শুধু রাতে সময় হয়। কারণ সে গ্রামে মানুষের সঙ্গে থাকে, সংসদীয় কাজে ব্যস্ত থাকে।”
বিয়ে নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা এ বছরের নভেম্বরকে ঘিরে। তবে ব্যস্ততার কারণে সঠিক তারিখ নির্ভর করছে সময়ের ওপর। আর বিয়ের পর ভ্রমণ নিয়েও চলছে আলোচনা। প্রিয়া চান সুইজারল্যান্ডে যেতে, আর রিংকুর ইচ্ছে নরওয়ে ভ্রমণের। রিংকুর ভাষায়, “আমি অনেক ভ্লগ দেখি, নরওয়ে আমার কাছে দারুণ সুন্দর মনে হয়েছে।”



