বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

ত্বকের জন্য ভাতের মাড়ের গোপন সব উপকার

120-FC887834_1

উজ্জ্বল ত্বক আর ঘন সুন্দর চুল। এটাই তো আমাদের সবার স্বপ্ন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যত্নের জন্য যে উপাদানটি দারুণ কার্যকর, সেটি আমাদের রান্নাঘরেই আছে। ভাতের মাড় বা চাল ধোয়া পানি। জাপানে হাজার বছর আগে থেকেই চালের পানি সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার করা হতো। আজও সেই প্রাচীন টিপস সমান জনপ্রিয়। এটি সহজে পাওয়া যায়, ঘরেই তৈরি করা যায় এবং খরচও নেই বললেই চলে।

চালের পানি বা ভাতের মাড় বানানো যায় কয়েকভাবে। চাইলে আধা কাপ চাল দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ব্যবহার করতে পারেন। আবার এই ভেজানো পানি ২৪–৪৮ ঘণ্টা ঘরে রেখে ফার্মেন্টেড করলেও কার্যকারিতা বেড়ে যায়। এছাড়া ভাত রান্নার পর যে অতিরিক্ত পানি ফেলে দেওয়া হয়, সেটিও ভাতের মাড় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে কয়েকদিন ব্যবহার করতে পারবেন।

চালের পানিতে আছে ভিটামিন বি, সি ও ই। এগুলো ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং কালো দাগ হালকা করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের বয়স বাড়া ঠেকাতে সাহায্য করে।ফলে ত্বক দীর্ঘদিন টানটান ও সতেজ থাকে। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এটি ত্বক কোমল করে ও পুষ্টি জোগায়। এছাড়া এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ত্বকের র‌্যাশ, লালচেভাব বা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।এটি টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মুখ ধোয়ার পর তুলায় নিয়ে লাগিয়ে নিন। চাইলে চালের গুঁড়া মিশিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করতে পারেন। এমনকি ফেসওয়াশের বদলেও ভাতের মাড় দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে মুখ পরিষ্কার করা যায়।

চালের পানিতে আছে অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি চুলকে মজবুত করে ও ভাঙা রোধ করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় ঝলমলে ও সিল্কি। ফার্মেন্টেড চালের পানিতে থাকা ‘ইনোসিটল’ চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এছাড়া খুশকির সমস্যায়ও ভাতের মাড় কার্যকর, কারণ এটি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে।শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। চুলে মেখে কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক বানাতে পারেন। আবার স্প্রে বোতলে ভরে লিভ-ইন কন্ডিশনার হিসেবেও ব্যবহার করলে চুল ঝলমলে ও ভলিউমযুক্ত দেখায়।

দামী কসমেটিক্সের পেছনে ছুটে যাওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন, আপনার রান্নাঘরেই আছে সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক সমাধান। ভাতের মাড় শুধু সহজলভ্যই নয়। বরং ত্বক ও চুলের জন্য নিরাপদ এবং কার্যকরও। নিয়মিত ব্যবহার করলে খুব দ্রুতই বুঝতে পারবেন এর পার্থক্য।