১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

অতিরিক্ত বিশ্রাম থেকেও হতে পারে মাইগ্রেন

IMG_7255

মাইগ্রেনকে অনেকেই সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে হালকাভাবে নেন। কিন্তু যারা ভুগেছেন তারাই জানেন এর যন্ত্রণা কতটা অসহনীয়। মাথার এক পাশে ধকধকে ব্যথা, বমি বমি ভাব, আলো শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতালবএসবই মাইগ্রেনের বৈশিষ্ট্য। সাধারণত মানসিক চাপ, কাজের ক্লান্তি কিংবা ঘুমের অনিয়মকে এই ব্যথার জন্য দায়ী ধরা হয়। তবে জানলে অবাক হবেন, কখনও কখনও অতিরিক্ত বিশ্রামও মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত নন, আসলে কোন একক কারণে মাইগ্রেনের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে মানসিক চাপ, কাজের চাপ, ঘুমের অনিয়ম, নির্দিষ্ট কিছু খাবার বা পানীয় সবই ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণত কাজের চাপ থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তাররা রোগীকে বিশ্রামের পরামর্শ দেন। আলো–শব্দ এড়িয়ে আরাম করলে ব্যথা কিছুটা কমেও আসে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কখনও কখনও এই বিশ্রামই মাইগ্রেনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন লম্বা ছুটি বা হঠাৎ করে অনেকটা আরাম পেলে কিছু মানুষের মাইগ্রেন দেখা দিতে পারে।

বিশ্রাম নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। বরং সমস্যা তৈরি করে মকঅতিরিক্ত বা হঠাৎ রুটিনের পরিবর্তন। শরীর ও মস্তিষ্ক কাজের চাপে যখন অভ্যস্ত থাকে, তখন হঠাৎ করে দীর্ঘ বিশ্রাম নিলে তারা যেন তালগোল পাকিয়ে ফেলে। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনই মাইগ্রেনকে উসকে দিতে পারে।

এ কারণেই টানা ব্যস্ততা শেষে হুট করে আরামের ছুটিতে গেলে অনেক সময় মাথাব্যথা শুরু হয়। তবে এমন ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। যাদের নিয়মিত মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কারণ তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে।

বিশ্রাম একেবারেই বন্ধ করার দরকার নেই। বরং কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নিন, যাতে শরীর ও মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। হুট করে সব চাপ ছেড়ে দিলে শরীর বিভ্রান্ত হতে পারে, আর সেখান থেকেই মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে মনে রাখবেন, মাইগ্রেনের প্রধান কারণ সাধারণত মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল সেবন। তাই আরাম কিংবা ছুটি উপভোগ করার সময় এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

Advertisements