ভ/য়াবহ স্মৃতি নিয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন মাইলস্টোনের ‘সবুজা খালা’

চিকিৎসা শেষে অবশেষে বাসায় ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুলের সবার পরিচিত মুখ ‘সবুজা খালা’। টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে ফেরার পরও তাঁকে ঘিরে রয়েছে দুর্ঘটনার সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি।
উত্তরার দিয়াবাড়ির খালপাড়ের বাড়ির উঠান বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকে। এক হাত পরপর বিছানো বালুর বস্তার ওপর পা ফেলে ফেলে ঢুকতে হয় ভেতরে। সেখানেই দেখা মেলে সবুজা বেগমের, যিনি স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘সবুজা খালা’ নামে।
২১ জুলাই ছিল সবার মতো তাঁরও স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততার দিন। শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও ওয়াশরুম পরিষ্কার করা, শিক্ষকদের ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা, আর ছুটি শেষে শিশুদের শৃঙ্খলাভাবে অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া—এসব ছিল তাঁর নিয়মিত দায়িত্ব। সেদিনও দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন তিনি। হঠাৎ প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে ভবন, মেঝেতে পড়ে যান সবুজা বেগম। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক—“বিমান ভবনের ওপর পড়েছে।”
ঘটনার কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি। স্মৃতি থেকে টেনে আনেন সেই সময়ের দৃশ্য—
“দেইখি স্যার-ম্যাডাম-বাচ্চাগো দৌড়াদৌড়ি শুরু হইছে। আমিও তাদের পাছ পাছ দৌড় দিলাম। কেউ নামছে সিঁড়ি দিয়া, কেউ বারান্দার মাথা দিয়া। আগুন দেইখা ভয় করি নাই বাবা, আগুনের ভেতর দিয়াই দৌড় দিছি।”

জ্বলন্ত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিল দুই শিশু। আগুন পেরিয়ে তাঁদের নিরাপদে বাইরে আনেন তিনি। তবে একটি শিশুর মাথা তখনই আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে যায়। একজন অভিভাবক নিজের ব্যাগ দিয়ে আরেক শিশুর শরীরে লেগে থাকা আগুন নেভান। আহত শিশুটিকে কোলে নিয়ে সবুজা বেগম পৌঁছে যান জুনিয়র স্কুল ভবনের পানির ট্যাংকের কাছে। শরীরে তখন তাঁরও তীব্র যন্ত্রণা। কলের পানি ছেড়ে শিশুকে নিয়ে বসে পড়েন সেখানেই। চারদিকে তখন কান্না আর আতঙ্ক। পাশে চোখে পড়ে আগুনে ঝলসে যাওয়া আরেকজন শিক্ষিকাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পৌঁছায়। আহত শিশুদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সবুজা বেগমের বড় ছেলে ঘটনাস্থলে আসেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর মায়ের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। এরপর ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতাল ঘুরে তাঁকে নেওয়া হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। সেখানে টানা তিন দিন ছিলেন আইসিইউতে। মুখ, হাত, পিঠ, পা মিলিয়ে শরীরের প্রায় ১০ শতাংশ পুড়ে যায় তাঁর।
চিকিৎসক ও পরিবারের যত্নে অবশেষে ২৭ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান সবুজা বেগম। এখন বাসায় থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন ‘সবুজা খালা’।



