বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনরবিবার, ১০ মে, ২০২৬
ফ্যাশন

হাই হিল কি মানসিক চাপ বাড়ায়?

ফ্যাশনের জগতে নারীর সৌন্দর্য ও স্টাইলের অন্যতম প্রতীক হিসেবে হাই হিলের জনপ্রিয়তা অনেক পুরোনো। পার্টি, অফিস মিটিং কিংবা উৎসবের সাজ যেন হাই হিল ছাড়া পূর...

IMG_6987

ফ্যাশনের জগতে নারীর সৌন্দর্য ও স্টাইলের অন্যতম প্রতীক হিসেবে হাই হিলের জনপ্রিয়তা অনেক পুরোনো। পার্টি, অফিস মিটিং কিংবা উৎসবের সাজ যেন হাই হিল ছাড়া পূর্ণ হয় না। অনেকের ধারণা হাই হিল পরলে নারী হয়ে ওঠেন আরও আত্মবিশ্বাসী, স্মার্ট ও আকর্ষণীয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে এই ফ্যাশনেবল জুতার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অস্বস্তি।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে  নিয়মিত হাই হিল পরা নারীদের শুধু শরীরেই নয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘসময় হাই হিল পরে থাকলে হাঁটার গতি ধীর হয়। শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং হাঁটু ও মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এসব শারীরিক অস্বস্তি ধীরে ধীরে মানসিক চাপের রূপ নেয়। যা উদ্বেগ, বিরক্তি এবং অবসাদের কারণ হতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যারা প্রতিদিন হাই হিল পরেন। তারা ফ্ল্যাট জুতো পরা নারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি পিঠব্যথা ও মানসিক চাপের শিকার হন। শরীরে দীর্ঘসময় ব্যথা থাকলে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। যা মেজাজ পরিবর্তন, অস্থিরতা ও অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পোশাক বা সাজসজ্জা যদি আরামদায়ক হয়। তবে তা মস্তিষ্কে ইতিবাচক উদ্দীপনা তৈরি করে এবং ডোপামিন হরমোন বাড়ায়। যা ভালো মেজাজ ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু হাই হিলের কারণে ব্যথা বা চাপ তৈরি হলে সেই ইতিবাচক অনুভূতি উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তাহলে কি হাই হিল পরা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে? না, কিছু সচেতনতা মানলেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব–

সঠিক হিল বেছে নিন- চওড়া ও কম উচ্চতার হিল ভারসাম্য রাখতে সহজ হয় এবং পায়ের ওপর চাপ কম ফেলে।

সময় সীমিত করুন- প্রতিদিন না পরে বিশেষ অনুষ্ঠান বা প্রয়োজনীয় সময়েই হাই হিল ব্যবহার করুন। দীর্ঘক্ষণ পরা এড়িয়ে চলুন।

পায়ের যত্ন ও ব্যায়াম করুন- নিয়মিত পায়ের স্ট্রেচিং ও ব্যায়াম করলে পেশি নমনীয় থাকে এবং ব্যথা ও চাপে আরাম পাওয়া যায়।