ওজন কমাতে ভাত ছাড়বেন না, বদলান অভ্যাস

বাঙালির খাদ্য তালিকায় ভাত যেন আবেগের নাম। দুপুরে পেট ভরে ভাত না খেলে যেন খাওয়াই হলো না। এমনটা আমরা অনেকেই ভাবি। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন ওজন বেড়ে যেতে থাকে। তখন অনেকেই ভাতকে দোষারোপ করে পুরোপুরি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প হিসেবে ডালিয়া, ওটস কিংবা কিনোয়ার দিকে ঝুঁকেন।
তবে ভাত খেয়েও আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। যদি একটু বুদ্ধি করে খান এবং কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলেন। চলুন জেনে নিই কীভাবে ভাত খেয়ে রোগা থাকা সম্ভব।

পরিমাণমত ভাত খান
ভাত মানেই বেশি ক্যালরিএই ধারণাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। মূল বিষয় হলো ‘পোর্শন কন্ট্রোল’। অর্থাৎ কতটা পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনের প্লেটে ভাত রাখতে পারেন। তবে তা যেন এক কাপের বেশি না হয়। একবারে বড় মাপের তিন চার কাপ ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বদলাতে হবে। ছোট পরিমাণে ভাত খেলেও পেট ভরবে, যদি সঙ্গী থাকে সঠিক খাবার।
ভাতের সঙ্গে রাখুন পর্যাপ্ত প্রোটিন
ভাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট। এই কার্বোহাইড্রেট সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে দরকার প্রোটিন। কারণ প্রোটিন বিপাক ক্রিয়া বাড়ায়, পেট বেশি সময় ভর্তি রাখে এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তাই প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে রাখুন ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, সয়াবিন, ডাল, পনির ইত্যাদি। এগুলো খেলে পুষ্টি যেমন মিলবে তেমনই ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
শাকসবজিকে বানান ভাতের সঙ্গী
একটি সাধারণ কৌশল হল ভাত কম, সবজি বেশি। সবজিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার। ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকে প্রচুর খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
তরকারিতে তেল-ঝাল কমিয়ে দিয়ে প্রতিদিনের প্লেটে নানারকম শাকসবজি যোগ করুন। যেমন মুলা, লাউ, পালং শাক, করলা, ঝিঙে, মিষ্টি কুমড়া, সিম। এসব সবজি ওজন কমানোর পাশাপাশি হজমও ভালো রাখবে।
কিছু টিপস:
– ভাত রান্না করার সময় বাড়তি তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
– রাতে ভাত না খেয়ে রুটি বা হালকা খাবার রাখুন
– ভাত খাওয়ার পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন
– চিনি ও ভাজাপোড়া কমান, এগুলো ওজন বাড়ানোর মূল কারিগর
ভাতকে ভয় পেয়ে সারা জীবন বাদ দিয়ে দিলে চলবে না। বরং সঠিক পরিমাণে খেয়ে, সুষম পুষ্টির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রেখে আপনি ভাত খেয়েই সুস্থ ও স্লিম থাকতে পারেন। মনে রাখবেন ‘খাদ্য বাদ নয়, সচেতনতা জরুরি’।



