ফ্যাশন আর নিরাপত্তার মিশেলে জেন-জির ফোন চার্ম

দিনভর হাতে থাকা মুঠোফোনটিকে এখন কেবলমাত্র প্রযুক্তিপণ্য নয়। ব্যবহারকৃত মুঠোফোনকে ফ্যাশনের অংশ হিসেবেও দেখছে জেনারেশন জি। তাই নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে নিচ্ছে এই নিত্যসঙ্গী ডিভাইসটিকে। আর সেই সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ‘ফোন চার্ম’।
ব্যাগে বা পকেটে গুঁজে রাখার বদলে অনেকেই এখন হাতে ঝুলিয়ে রাখছেন ফোন। ফোনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে রঙিন পুঁতির মালা, ছোট্ট টেডি বিয়ার, কার্টুন ক্যারেক্টার বা হার্ট আকৃতির ছোট ছোট চার্মস। কারও ফোনে ঝুলছে প্রিয় কে-পপ তারকার ছবি বা নাম, কেউবা বেছে নিচ্ছেন পছন্দের অ্যানিমে চরিত্র।
এই ট্রেন্ড কেবল কিশোরী বা তরুণীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তের তারকারাও এখন ফোনে ঝুলিয়ে নিচ্ছেন চার্ম। আন্তর্জাতিক মডেল জিজি হাদিদ থেকে বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে। সবাই এখন ফোনে যুক্ত করছেন নিজস্ব স্টাইলের ছোঁয়া।

একসময় সব ফোনই দেখতে একরকম কালো বা ধূসর। কিন্তু ফোন চার্মের মাধ্যমে নিজের পছন্দের রং, নকশা বা চরিত্র তুলে ধরছে জেন-জি। এতে ফুটে উঠছে ব্যক্তিত্ব আর নিজস্ব স্টাইল সেন্স।
‘ওয়াইটু কে’ ঘরানার ফ্যাশন ফিরে আসছে
২০০০ সালের শুরুর দশকে যেমন রঙিন পুঁতির চেইন বা ব্রেসলেট জনপ্রিয় ছিল। সেই পুরোনো ফ্যাশনকেই নতুন রূপে ফিরিয়ে এনেছে জেন-জি। ‘ওয়াইটু কে’ স্টাইল এখন আবার ট্রেন্ডিং।
ক্রস রিভার থেরাপির এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ দিনে গড়ে প্রতি ১২ মিনিটে একবার ফোন দেখে। ফলে ফোন সবসময় হাতেই রাখতে পছন্দ করে অনেকে। এই ফোন চার্ম সেই কাজটিই সহজ করে দিয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মুঠোফোন চুরির ঘটনা বাড়ায় অনেকেই ফোন চার্মকে দেখছেন নিরাপত্তার একটি উপায় হিসেবে। ফোন ঝুলিয়ে রাখলে তা হঠাৎ করে টেনে নেওয়া একটু কঠিন হয়ে পড়ে, ছিনতাইয়ের ঝুঁতিও কিছুটা কমে।
টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে এখন একরকম হিট কনটেন্ট ফোন চার্ম বানানোর ভিডিও। অনেকেই সেগুলো দেখে নিজে বানাচ্ছেন চার্মস। কেউবা আবার বানিয়ে দিচ্ছেন বন্ধুকে উপহার হিসেবেও।
ফোন চার্ম তাই জেনারেশন জির কাছে এখন কেবল সাজ নয়। নিজস্বতা, ব্যবহারিকতা আর নিরাপত্তার অনন্য এক মিশেল।



