১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

অল্প কথায় গভীর ছাপ: মিটিংয়ে স্মার্টলি নিজেকে যেভাবে তুলে ধরবেন

WhatsApp Image 2025-07-07 at 6.10.10 PM

যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে আপনি নিশ্চয়ই এমন কিছু সহকর্মীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, যাদের প্রধান কাজ মিটিংয়ে ‘ফটফট করে’ কথা বলা। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, অফিসের সব দায়িত্ব যেন তাদের কাঁধেই। অথচ বাস্তবতা হলো, কাজের টেবিলে তারা অনেক সময়ই অনুপস্থিত বা কম কর্মক্ষম।

একটি অফিসে এমনই একজন সহকর্মী ছিলেন, যিনি বেশিরভাগ সময় কাটাতেন নিচের চায়ের দোকানে। তবে মাসিক বা সাপ্তাহিক মিটিংয়ে তিনি হয়ে উঠতেন ‘সবজান্তা নায়ক’। প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবই তার মুখস্থ। শুনলে মনে হতো, অফিস তার একার কাঁধেই চলছে। কিন্তু যখন বার্ষিক কর্মমূল্যায়নের ফলাফল এলো, দেখা গেল সেই ‘মিটিং তারকা’র প্রাপ্তি সবচেয়ে কম। কেন?

কারণ অফিসে মূল্যায়ন হয় বাস্তব কাজ, নিয়মিততা, পরিকল্পনার বাস্তবতা এবং সহযোগিতামূলক ভূমিকার ভিত্তিতে—কথার জোরে নয়।

মিটিং মানেই নিজেকে জাহির করা নয়

অনেকেই মনে করেন, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে হলে প্রতিটি মিটিংয়ে নিজেকে দৃশ্যমান রাখতে হবে, বেশি বেশি কথা বলতে হবে। এটি একটি বিভ্রান্তিকর অর্ধসত্য।
আলোচনায় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটি হতে হবে প্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যমূলক। কারণ মিটিংয়ের সময় অগণিত কথা বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বরং মূল বিষয়কে ঢেকে ফেলে। সবাই যখন একসঙ্গে কথা বলেন, তখন কেউ কাউকে ভালোভাবে শোনেন না, এবং অনেক তথ্যই পরে আর মনে থাকে না।

ফোর্বস ম্যাগাজিন এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিটিংয়ে বেশি কথা বললে নেতৃস্থানীয় মনোভাব ফুটে ওঠে এমন ধারণা পুরনো হয়ে গেছে। বরং এখন মূল্যায়ন করা হয় কে কখন, কীভাবে এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছেন—সে আঙ্গিকে।

তাহলে কীভাবে গুরুত্ব বোঝাবেন?

যারা কম কথা বলেন, তাদের জন্য মিটিংয়ে প্রভাব বিস্তার করার দারুণ কিছু কৌশল রয়েছে:

✅ ১. আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন:

আপনি যে বিষয়ে কথা বলতে চান, তা নিয়ে ভালোভাবে ঘরে বসেই প্রস্তুতি নিন। প্রাসঙ্গিক ডেটা, উদাহরণ ও সমস্যার বাস্তব চিত্র মিটিংয়ে তুলে ধরতে পারলে আপনার বক্তব্য হবে আরো গ্রহণযোগ্য।

✅ ২. সংক্ষিপ্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক বক্তব্য দিন:

মিটিংয়ে সময়ের মূল্য আছে। তাই দীর্ঘ বক্তৃতার বদলে সংক্ষেপে পয়েন্ট আকারে আপনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন। এতে উপস্থিত অন্যরাও আপনার কথায় মনোযোগী হবেন।

✅ ৩. প্রভাবশালী ও নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিন:

“আমরা কাজটা করলে ভালো হবে”—এমন অস্পষ্ট মন্তব্যের চেয়ে ভালো হবে যদি বলেন, “আমরা এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করলে আগামী ৩ মাসে খরচ ২০% কমানো যাবে”। পরিমাপযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত তথ্য থাকলে তা কর্তৃপক্ষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

✅ ৪. সময়জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন:

মিটিংয়ে কথা বলার জন্য না বলে থাকলেও, সময় বুঝে সঠিক কথাটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললে সেটিই অনেক সময় বাকিদের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

নিজের কাজেই হোক পরিচয়ের হাতিয়ার

ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য শব্দ নয়, প্রয়োজন দক্ষতা, আন্তরিকতা এবং নিজের অবস্থান বুঝে চলার বুদ্ধিমত্তা। কম কথা বলেও আপনি যদি দায়িত্বশীল হন, সময়মতো কাজ শেষ করেন এবং চিন্তাশীল উপায়ে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন—তাহলে আপনার গুরুত্ব কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

স্মার্ট কর্মীরা শব্দের ঝড় তোলেন না, বরং সময়মতো প্রয়োজনীয় কথাটাই বলেন—যা থেকে তৈরি হয় আস্থা, গুরুত্ব ও নেতৃত্বের ইমেজ।

Advertisements