আজ বিশ্ব চকলেট দিবস

প্রতি বছর ৭ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় ‘বিশ্ব চকোলেট দিবস’। এই দিনটি বিশেষ করে চকলেট প্রেমীদের জন্য খুব আনন্দের। ছোট-বড়, শিশু-বৃদ্ধ সবারই প্রিয় এই মিষ্টি খাবার চকলেট। শুধু খাওয়া নয়, চকলেট এখন ভালোবাসা প্রকাশেরও অন্যতম মাধ্যম। কেউ রাগ করলে, কেউ মন খারাপ করলে বা কাউকে ভালোবাসা জানাতে এক টুকরো চকলেট দিয়েই হাসি ফুটে ওঠে মুখে।
চকলেটের ইতিহাস বহু পুরনো। প্রায় ৪০০০ বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার মায়া ও আজটেক সভ্যতায় প্রথম চকলেটের প্রচলন ঘটে। তবে তখনকার মানুষরা চকলেট খেতেন না। বরং এক ধরনের তেতো পানীয় হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৫০০ শতকে স্প্যানিশরা ইউরোপে চকলেট নিয়ে আসে। ধীরে ধীরে এতে চিনি যোগ করা হয় এবং সেটা পরিণত হয় আজকের এই মিষ্টি, সুস্বাদু চকলেটে।

১৫৫০ সালের এই দিনে ইউরোপে প্রথমবারের মতো চকলেটের প্রবেশ ঘটে। তাই ৭ জুলাই দিনটিকে বিশ্বব্যাপী চকলেটের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
চকলেট শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এটি মনের উপরও ভালো প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডার্ক চকলেট খেলে দেহে ‘এন্ডরফিন’ নামের সুখ হরমোন নিঃসরণ হয় যা মন ভালো করে দেয়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, চকলেট খেলে মানসিক চাপ কমে, মন প্রফুল্ল থাকে।
এছাড়া চকলেটে থাকা ‘ফ্ল্যাভানল’ নামের একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। তবে অবশ্যই মাত্রা বজায় রেখে খেতে হবে।
চকলেটের বিভিন্ন ধরনের কথা
বর্তমানে বাজারে নানা রকম চকলেট পাওয়া যায়।
ডার্ক চকলেট – কম চিনি, বেশি কোকো স্বাস্থ্যকর চকলেটের মধ্যে অন্যতম।
মিল্ক চকলেট – দুধ ও চিনি মিশ্রিত, সবচেয়ে জনপ্রিয়।
হোয়াইট চকলেট – এতে কোকো সলিড নেই, কিন্তু দুধ ও কোকো বাটার থাকে।
ফ্লেভার্ড চকলেট – বিভিন্ন স্বাদ ও ফ্লেভারের মিশেলে তৈরি। যেমন মিন্ট, কমলা, বাদাম বা ক্যারামেল চকলেট।

প্রতিটি মানুষের রুচি ও পছন্দ আলাদা। কেউ পছন্দ করে নরমাল মিল্ক চকলেট, কেউবা আবার শুধু ডার্ক চকলেটই খেতে ভালোবাসেন। বিশ্ব চকোলেট দিবসকে রঙিন ও আনন্দঘন করে তুলতে পারেন নানা উপায়ে। যেমন
- প্রিয়জনকে চকলেট উপহার দিন।
- নিজে নতুন ধরনের চকলেট তৈরি করে খেতে পারেন।
- বাচ্চাদের নিয়ে মজার চকোলেট গেম খেলতে পারেন।
- বন্ধুদের সাথে মিনি চকলেট পার্টি করতে পারেন।
কোনো দুঃখী বা অসহায় মানুষকে চকলেট দিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে পারেন।
সবচেয়ে বড় কথা, এই দিনে নিজের জন্য একটু সময় রাখুন, প্রিয় চকলেটের স্বাদ নিন আর জীবনকে উপভোগ করুন।
বিশ্ব চকোলেট দিবস মানেই শুধু খাওয়া নয়, চকলেট নিয়ে রয়েছে কিছু মজার ও অজানা তথ্যও।
- প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীতে ১০০ কেজির বেশি চকলেট খাওয়া হয়।
- সবচেয়ে বড় চকলেট বার ওজন ছিল ৫৭৬২ কেজি।
- বিশ্বের প্রথম চকলেট বার তৈরি হয়েছিল ১৮৪৭ সালে।
- বিজ্ঞানীরা বলছেন, চকলেট মানব মস্তিষ্কের জন্য এতটাই ভালো যে, তা মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
চকলেট খাওয়ার সময় মাথায় রাখবেন
চকলেট খাওয়া যতই আনন্দের হোক, অতিরিক্ত খাওয়া কখনওই ভালো নয়। কারণ এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে ওজন বাড়তে পারে, দাঁতের ক্ষতি হতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ডার্ক চকলেট খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর, আর সেটাও পরিমাণমতো।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনে ২০-৩০ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেলে কোনো সমস্যা হয় না। বরং তা শরীরের জন্য উপকারী। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানতা জরুরি। অতিরিক্ত চকলেট খাওয়া তাদের দাঁত ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

বিশ্ব চকোলেট দিবস শুধু মিষ্টি খাওয়ার দিন নয়, এটি হাসির, ভালোবাসার, সম্পর্ক জোড়া লাগানোর এক দারুণ উপলক্ষ। একটি ছোট্ট চকলেটের মাধ্যমেও অনেক বড় ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা, আনন্দ প্রকাশ করা যায়। তাই আজকের দিনটিকে স্পেশাল করে তুলুন প্রিয়জনের সঙ্গে, নিজেকে একটু ভালোবাসুন আর ছোট্ট এক টুকরো চকলেটের মিষ্টি স্বাদে ভরে তুলুন দিনটিকে।



