Skip to content

৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি

ধর্ষণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। আমাদের সমাজে কিছু বিকৃত রুচির মানুষ মেয়েদের দেখলেই তাদের লালসা চরিতার্থ করতে চেষ্টা করে। তাদের লালসা নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, পোশাক কোনোকিছুই যে প্রধান নয় তা বারবারই প্রমাণ করে এসব ঘটনা। সমাজের এসব লোমহর্ষক ঘটনা মানুষের বিবেক, মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বরাবরই!

তারওপর তিনি যদি শিক্ষাগুরু হন তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায় এমন অমানবিক, লোমহর্ষক, নির্দয় ও বিকৃত মানসিক অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাছ থেকে এ সমাজের কি’বা প্রাপ্য। ফলে সমজের মানুষ যে নারীকে দোষারোপ করে তার পোশাক, চালচলন নিয়ে বরং তা না করে মনুষ্যত্ব-বিবেকের পরিচর্যা করা উচিত সবার। কারণ যদি শুধু পোশাকের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় তবে ছোট্ট ক্লাস ফোরের একজন শিক্ষার্থীকে কতটা দায়ী করবে এ সমাজ? তারওপর এই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার ছাত্রী। তাই স্বাভাবিকভাবেই তার লেবাস ইসলামের পরিপন্থী নয় বা সমাজ বিরুদ্ধ নয়। তাহলে এই ছোট্ট একটি কন্যা শিশুকে ধর্ষণের কী অর্থ? সাধারণের দৃষ্টিতে তাহলে এই দায় কার?

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় রওজাতুল ইসলাম চাক্তা মাদ্রাসার অফিসে কক্ষে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে পাশবিক নির্যাতন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা মাসউদ আজহার (৪০)। এক্ষেত্রে বলাই যায় এই নিকৃষ্ট পশুর মধ্যে মানুষ্যত্বের ছিটেফোঁটাও নেই। নতুবা কিভাবে একজন ছোট্ট শিশুর প্রতি এতটা রূঢ় আচরণ করতে পারে। আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষই ধর্ষণের দায় নারীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। এই শ্রেণি স্বাকারই করেন না যে, এ দায়ও নিকৃষ্ট মানুষের, যে বা যারা নারী দেখলেই বিকৃত কামনা বা লালসাকে নিবৃত্ত করতে চান। তারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হলেও এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, সব দোষ এই মেয়ের বা এই নারী। যে কিনা তার আকৃষ্ট করার ক্ষমতা দিয়ে এই পুরুষকে যৌন উত্তেজক করে তুলেছে। তাহলে সেই শ্রেণির কাছে প্রশ্ন এটাই হতে পারে যে, তাহলে এই ছোট্ট মাদ্রাসার ছাত্রীর কোথায় সমস্যা ছিল? তার কি পোশাকে সমস্যা, নাকি বয়সে সমস্যা? দুটোরই উত্তর বিশেষভাবেই নাবাচক হবে।

তাহলে এ সিদ্ধান্তেই আসা যায় এ সমাজের বিকৃত মানসিকতাই মূল সমস্যা। ধর্ষণের মূল কারণই তার মস্তিষ্কের বিকার, বিকৃত রুচি। একজন যৌবনোত্তীর্ণ পুরুষ কিভাবে এমন আচরণ করতে পারেন! তারওপর তিনি যখন শিক্ষার দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তখন তার দায় কী হওয়া উচিত? এই প্রশ্নগুলো আমাদের সমাজে উঠে আসা উচিত। অন্যকে দোষারোপ করার আগে নিজেদের মনের বিকারকে দূর করা উচিত। সত্যিই কিসের জন্য এ সমাজে এ অন্যায়, অবিচার। আর কেনোই বা এত ভণ্ডদের দৌরাত্ম? সমাজ এই ভণ্ডদের ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেয়। যার দরুণ নিজের অপকর্মকে ঢাকা দেওয়ার একটা পথ পায় এই শ্রেণি। তাই এসব ভণ্ডদের সঙ্গে যোগ না দিয়ে বরং তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নাহলে কোনো নারীই এসব বিকৃত মানুষদের থেকে রক্ষা পাবে না। তাই দেশের আইন, প্রশাসন সর্বোপরি এ সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হলো, কেবল আইন করে শাস্তি দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই অপরাধ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তবেই ধর্ষণ আস্তে আস্তে সমাজ থেকে বিদায় নেবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ