Skip to content

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারী তার নিজস্ব দৃষ্টিতে পৃথিবীকে দেখবে

একজন মানুষ,তারপর একজন নারী,তারপর একজন মা। বাঙালি সমাজে নারীদের অবস্থান কোথায়! তা একমাত্র নারীর ভুক্তভোগীরা বিশেষভাবে বুঝতে পারেন। আপাতত দৃষ্টিতে আমরা অনেকেই তা অনুধাবন করি। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার রূঢ়তার কারণে সেভাবে সোচ্চার হতে পারেনি।

বাঙালি পরিবারের মেয়ে শিশুরা ছোটবেলায় কিছু স্বাধীনতা ভোগ করলেও বড় হতে হতে সেই স্বাধীনতার কিছুই আর অবশিষ্ট থাকত না। নীল আকাশে উড়ার স্বাধীনতা মানায় না বাঙালি মেয়েকে। বাঙালি প্রথা, সমাজ, ধর্মের নিয়ম সংস্কারের চাপ ইত্যাদি ইত্যাদি। আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠার পর নানান সমস্যায় তার বেড়ে ওঠাতে হস্তক্ষেপ করে একদল মানুষ।

এই ধরা যাক, আমরা যতই নারীর সম্মান বা নারীর মর্যাদা নিয়ে কথা বলিনা কেন দিনশেষে তা সবই ভুলে যাই। আপনি কখনো ভেবেছেন আসলে নারীর মর্যাদা কী! কখনো উপলব্ধি করেছেন,শুনতে অপ্রিয় হলেও এটাই সত‍্য যে আমাদের সমাজে অধিকাংশেরই জানা নেই। ঘুরেফিরে আপনাদের সেই একটাই বাক‍্য জানা, পৃথিবীর সব নারীর মধ্যে মা আর বোনকে খুঁজে পাওয়াটা হলো নারীকে সম্মান করা। অধিকাংশের কাছেই এই ধারণাটা এই রকম সম্ভবত।

কিন্তু আপনি এটা ভুলে গিয়েছেন নারী-পুরুষের সম্পর্কটা যে শুধু মা,বোন বা সন্তান কিংবা ভাইয়ের সম্পর্ক নয়, মনে রাখা উচিত বেঁচে থাকার প্রয়োজনে একজন নারীকে বিভিন্ন সম্পর্কের নারী হয়ে বাঁচতে হয়। তারও যে সুনির্দিষ্ট সম্মান প্রাপ্য, সে কথা বুঝেই উঠতে পারেনি আমরা অনেকেই। এই নারীর সাথেই আমাদের বাস।

সবকিছুতে কেন আমাদের পুরুষের পুরুষত্বের বিচারের দিক দিয়ে নারীকে বিচার করতে হবে! প্রত্যেকটি মানুষের স্বাধীনতা থাকে,এখন সে কিভাবে তার সেই স্বাধীনতা রক্ষা করে চলবেন! তা তুলে ধরবেন তার নিজস্ব চিন্তাভাবনাই। তুলনামূলক-ভাবে এই সমাজে পুরুষের থেকে মেয়ে বা নারীর সংখ্যা কিন্তু কম না।

নারীর সব কিছু নিয়ে বিচার করে কে? নিঃসন্দেহে তিনি একজন পুরুষ। তাহলে পুরুষদের বিচারের মাপকাঠি হল পুরুষত্বের জায়গা থেকে। কিন্তু একজন নারীর জীবনের অপরিহার্য কিছু বিষয় বস্তু আসতে পারে।


নারীদের দৃষ্টিতে জগত জীবনের নবতর মূল্যায়ন, তার ব্যবহার্য খুব তুচ্ছ বিষয়ও পথ চলার অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলতে পারে। নারীদের পথ চলা, পোশাক-আশাক নিয়ে যতটা আলোচনা, সমালোচনা হয় ততটা আলোচনার মূল মধ‍্যমনি হিসবে পুরুষ। কিন্তু পুরুষের পোশাক, পুরুষের পথ চলা নিয়ে নারীরা তো কখনোই আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলতে আসেনি। তাহলে আমাদের এই সমাজে নারীর পোশাক, পথ চলা, কথা বলা, তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করা, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা এইটা কিন্তু আমরা পুরুষরাই করে থাকি।

চিরকাল পুরুষ তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নারীর চরিত্রের নেতিবাচক সব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। পুরুষের লেখার জমিনে নারীদের রহস্যময়তা, ছলাকলা, প্রতারণা, অপবাদ ও অপমানের সব চিত্র। এমনকি মনগড়া, বৈষম্য মূলক চিন্তা থেকে নিজের করা কল্পনা থেকে নারী সম্পর্কিত বাজে কিছু ধারণা তুলে ধরা হয়েছে এই সমাজে। আমরা পুরুষরা কিন্তু পুরুষের প্রতারণা,ব্যভিচার,অন্যায়, নিষ্ঠুরতার চিত্র আঁকেনি অথবা আঁকার মতো মন মানসিকতা তৈরি করেনি কখনো।

আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে দুঃখের বিষয় হলো, নারীদের নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গুলো যেমন তার সহিষ্ণুতা, ধৈর্য, আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরতে গেলে সেটাতেও আমরা বাধাগ্রস্ত করে থাকছি। যার ফলে কোন নারী আজও কিছু লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। অথচ এই সমাজের অসমতার জন্য আমরা পুরুষরাই দায়ী। তাই এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী মুক্তির শত্রু পুরুষ নয়; লালসাময়ী পুরুষই দায়ী।

জেএজে/ অনন্যা

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ