চলে গেলেন প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল হক

আজ রোববার ১০ অক্টোবর বেলা পৌনে ১১ টার সময় সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাই ওনার নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পেশায় সাংবাদিক ছাড়াও ওনার আরো অনেকগুলো পরিচয়ও ছিলো। উনি একাধারে একজন শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, শিশু সংগঠক এবং নাট্যকার ছিলেন।
কর্মজীবনে সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরের ফিচার এডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক রূপালীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বেও কর্মরত ছিলেন এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক। এর আগে তিনি দৈনিক জনতার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও ছিলেন। কাজ করেছেন দৈনিক লাল-সবুজ, আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভারে।
এমনকি সত্তর দশকে শিশুকিশোরদের জনপ্রিয় ‘কিশোর বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এবং আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ‘নিধুয়া পাথার কান্দে’ নামে একটি নাটক লিখেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। সাতটি বইও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তারমধ্যে ‘বর্গি এলো দেশে’ ছিলো অন্যতম।
মৃত্যুর প্রায় ছয়মাস আগে থেকেই তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। এর আগে দুবার করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। করোনা সেরে উঠার পর অফিসে যোগ দিলেও বার্ধক্যজনিত নানান ব্যধির কারণেই কর্মরত থাকতে পারেননি। মৃত্যুর আগে স্ট্রোকও করেছিলেন তিনি।
নিজের নানাবিধ কাজের জন্য বহুবার পুরস্কৃতও হয়েছিলেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব। বাংলা শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০০৯ সালে পান বাংলা একাডেমী পুরস্কার। একই বছর বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমী পুরস্কার, নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
১৯৩৭ সালের ৮ জানুয়ারি রফিকুল হক তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের কামালকাচনায় জন্মগ্রহণ করেন।