Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নারীর পেশা নির্বাচনে পরিবারের ভূমিকা

নারীদের পিছিয়ে থাকার দিন তো সেই কবেই শেষ। বর্তমানে নারীরা ঘরে বাইরে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন। নারী সংসার সামলাচ্ছে, আবার নারীই দেশ চালাচ্ছে। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরণের পেশা থাকলেও নারীদেরকে প্রত্যেকটি পেশার বিপরীতে মানতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এখনো নারাজ। চালেঞ্জিং পেশাগুলোতে নারীদের নাম লেখাতে হলে আগে সহ্য করতে হয় সমাজের বাঁকা চাহুনি।

 

বহু বাঁধা পেরিয়ে নারীরা চালেঞ্জিং পেশাগুলোতে আসতে পারলেও  'মেয়ে বড় হয়ে ঘর সামলাবে, এতো পড়াশোনা করিয়ে কি হবে? মেয়েদের বাইরে বেশি বের হতে দেওয়া উচিত না' প্রভৃতি বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। এসব প্রশ্নগুলোই মূলত নারীদের পেশা নির্বাচনে বাধার সৃষ্টি করে। কিছু কিছু নারীরা আত্মবিশ্বাসের জোরে সকল বাঁধা কাটিয়ে উঠতে পারলেও অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পেশা বাছাই করতে পারেন না। তবে এসব বাধা কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে পরিবার। 

 

সমাজের একটি চালেঞ্জিং পেশার উদাহরণই দেয়া যাক। একটি মেয়ে পেশা হিসেবে যদি সাংবাদিকতা নিতে চায় তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরা হয় কিছু প্রশ্ন দিয়ে। আজকাল শহরাঞ্চলে বিষয়টি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গ্রামাঞ্চলে বিষয়টি এখনো অনেকটাই অস্বাভাবিকই বটে । অনেকের মুখেই শুনতে হয়, 'মেয়ে হয়ে সাংবাদিকতা করে কি করবে?' এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাই মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে তার স্বপ্ন পূরণে ও পেশা নির্বাচনে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।  

 

বর্তমানে নারীরা আর পিছিয়ে নেই। দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। নারীরা নিজেরাই কর্মমুখী হচ্ছে। তাই নারী কোন পেশায় নিজের ক্যারিয়ার করবে এটা নারীর ঠিক করা উচিত। পরিবার পাশে থাকলে নারীরা সবক্ষেত্রেই সমানভাবে এগিয়ে যাবে। 

 

একটি উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবার নারীর পেশা নির্বাচনে যেভাবে নারীর পাশে দাঁড়াবে একটি নিম্নবিত্ত পরিবার সেভাবে দাঁড়াবে না। নিম্নবিত্ত পরিবারে নারীদের ১৮ পেরলেই বিয়ে তখন তাদের একমাত্র কাজ ঘর সংসার সামলানো। কিন্তু উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবার নারীদের ইচ্ছার কথা শুনে সেই ইচ্ছে পূরণে সাহায্য করে। এতে করে নারীরা সহজেই নিজের পেশা নির্বাচন করতে পারে। 

 

একটি পরিবারই যেমন নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে, তেমনি তাদের পরনির্ভরশীলও তৈরি করতে পারে। নারীরা স্বাবলম্বী হবে নাকি পরনির্ভরশীল হবে তা ঠিক করতে মুখ্য ভূমিকা থাকে পরিবারের। পরিবারই নারীর ইচ্ছের সম্মান দেয় আবার পরিবারই নারীর ইচ্ছের মৃত্যু ঘটায়।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ