Skip to content

২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভুয়া আইডি দিয়ে নারীদের হয়রানি!

অনলাইন হেনস্থা হওয়া যেন নারীদের জন্য নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। সমাজের এক শ্রেণির নিচু মন-মানসিকতার মানুষের কাছে বিষয়টি খুবই আনন্দদায়ক। বিভিন্ন উপায়ে তারা প্রতিনিয়তই তাদের বাজে কাজটি অব্যাহত রাখছে। সমাজের চোখে তারা অভিশাপ হলেও কার্যত তেমন পদক্ষেপ কখনোই আসেনি। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে এক আলোচনা সভা করা হয়।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিমাসে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনে গড়ে দেড় হাজার অভিযোগ জমা পরছে। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের বছর পূর্তিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ খবর জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গত বছরের ১৬ নভেম্বর সাইবার ক্ষেত্রে অপরাধের শিকার নারীদের জন্য পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, "সম্পূর্ণ নারী পুলিশ পরিচালিত এ সার্ভিসে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৮০ জন ভুক্তভোগী নারী যোগাযোগ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ২২১ জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও আইনি সহায়তা দিয়েছে এই ইউনিটটি।"  

 

পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন,"সাইবার দুনিয়ায় নারীদের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর মতো ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে অভিযুক্ত একটি আইডি হয়তো বন্ধ করা যাচ্ছে, কিন্তু তার আগেই ক্ষতিকর তথ্য কোটি কোটিবার শেয়ার হয়ে যাচ্ছে"।

 

অনুষ্ঠানে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খালেদা বেগম বলেন, "ভুক্তভোগী নারীদের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁরা তাঁদের পেশাদারিত্ব এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন"। অনুষ্ঠানে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, যত অভিযোগ এই সেন্টারে এসেছে, তার মধ্যে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এর হার মোট অভিযোগের ৪৩ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি থেকে তথ্য প্রকাশ করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন ৫ হাজার ৪৭৫ জন ভুক্তভোগী। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনে বিভিন্ন বয়সী নারী অভিযোগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে শতকরা ১৬ ভাগের বয়স ১৮ বছরের কম। শতকরা ৫৮ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তাছাড়া ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভুক্তভোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশ এবং ৬ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি।ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। মোট অভিযোগের ৬৪ শতাংশই ঢাকা থেকে আসা।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন ও কথোপকথনের মাধ্যমে ছবি, ভিডিও বা পরিচিতি তথ্য প্রকাশ, আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে বা আপত্তিকর ভাষায় নারীদের খুদে বার্তা দেওয়া, আইডি হ্যাক করে তাতে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা ও মুঠোফোনে ফোন করে হয়রানি করেছেন অভিযুক্তরা।এ ধরনের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে অনেক সময় বাদীরা পিছিয়ে আসেন বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই ক্ষতিকর আধেয় সরিয়ে নেওয়ার পর আর এগোতে চান না। তাঁরা সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। এসব ক্ষেত্রে সাহস করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক। 

 

সাইবার ঝুঁকি না জেনে সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্বে ঝাঁপ দেওয়ার অনেকের এই প্রবণতা রয়েছে। দেশের নারীদেরকে অনলাইনের মাধ্যমে নানাভাবে অপমানিত করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে বিষয়গুলো বাজে পরিণতিতে রূপ নিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে থেমে যাচ্ছে তাজা, চঞ্চল একটি প্রাণ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এই ধ্বংসের খেলা কি মানসিক চেতনা উন্নত করা গেলেই সমাধান হবে?