অপবিত্র মেয়ে
আমাকে আজ তোমরা অপবিত্র বলছো কেন?
আমিতো অপবিত্র হতে চাইনি!
আমিতো চেয়েছিলাম
সব মেয়েদের মতো
সমাজে মাথা তোলে বাঁচতে।
গরীব হয়ে জন্ম নেয়াটা কি
আমার অপরাধ?
অভাব-অনটন দূর করার জন্য
আমায় দিয়েছো বিক্রি করে।
আমার জীবনেতো সুন্দর সকাল ছিল
ছিল রোদেলা দুপুর
ছিল পড়ন্ত বিকেল
ছিল আলো-জ্বলমলে সন্ধ্যাতারা।
সব কিছু কেন? এমন হল,
বল না মা!
আমায় বিক্রি করে
সে টাকায় সংসার চালাচ্ছো
তাতে কোন পাপ হয়নি!
আমার রক্তে-মাংসে উপার্জনের টাকায়
তোমার জন্য একটি শাড়ী কিনে দিয়েছি,
সেই শাড়ী ছুড়ে ফেলে দিলে
পাপের টাকা বলে-বলে।
আজ আমার উপার্জনের টাকা
তোমাদের কাছে,পাপের টাকা হয়ে গেল।
কেন? মা
তুমি-ও-তো একজন নারী!
তুমি কি?
আমার কষ্টের কথা বুঝতে পারছোনা।
তোমাদের সুখের জন্যইতো আমাকে
এই আবর্জনায় বিক্রি করে ছিলে।
প্রতি দিন পাড়া প্রতিবেশী আঙ্গুল তুলে বলে
ঐ যে যাচ্ছে অপবিত্র মেয়ে।
তারাতো জানে না,আমি আজ কি কারণে চলছি
অন্ধকার গলির হাত ধরে।
অভাবের তাড়নায় করেছো
বিক্রি অন্ধ গলির মাঝে।
আজ কেন?
তোমরাই আবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছো
অপবিত্র-মেয়ে বলে।
মাগো তোমাদের অভাব কি?
আজও ছাড়েনি, তোমাদের উঠোন থেকে!