সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা!

কালোজিরা
কালোজিরা
কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালো জিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। দাঁতের ব্যথায় পানিতে কালো জিরা দিয়ে ফুটিয়ে পানির তাপমাত্রা উষ্ণ অবস্থায় এলে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁত ব্যথা কমবে এবং মাঢ়ির ফোলা বা রক্ত পড়া বন্ধ হবে।

কালোজিরা, প্রায় সকল রোগের ক্ষেত্রেই যার আছে ঔষুধি গুণ। বলা হয়, মৃত্যু ছাড়া সর্বরোগের ওষুধ আছে কালোজিরায়। প্রাচীনকাল থেকেই নানা অসুখ-বিসুখে কালো জিরাকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন চিকিৎসক-কবিরাজরা। স্বাদে তেতো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি প্রায় সব অসুখেই কাজে আসে। আসুন আজকে জেনে নেই  কালো জিরার কিছু গুণাগুণ

 

মুখের ব্রণ দূর করতে

দামি ক্রিম, ফেসওয়াশ আর বিউটি পার্লারে ফেসিয়ালের পেছনে হাজার টাকা ব্যায় না করে পাশের মুদি দোকান থেকে কিনে আনুন আধা কেজি কালোজিরা। কালোজিরা বেটে তাতে লেবুর রস আর চিনি মিশিয়ে মিশ্রণটি মাখুন পুরো মুখে। দশমিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহখানেক এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন, দেখবেন ব্রন পালাবে বাপ বাপ করে।

 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

উচ্চ রক্তচাপ থেকেই অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা যায়। এটি নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকরী কালোজিরা। যে কোনো পানীয়ের সঙ্গে আধ চা চামচ কালোজিরা তেল মিশিয়ে খেলেই তা নিয়ন্ত্রণে রাখবে উচ্চ রক্তচাপ।

 

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে

কালো জিরায় লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে, যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

 

হৃদরোগ প্রতিরোধে

যাদের হৃদরোগ আছে, তারা সুস্বাস্থ্য পেতে পান করুন কালোজিরা মেশানো দুধ। দুই বেলা এই দুধ দশদিন খাওয়ার পর এক বেলা করে খাবেন। হৃদরোগের কষ্ট কমার পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা এটি কমিয়ে আনবে অনেকটাই।

 

স্মরণ শক্তি বাড়াতে

মেধা বিকাশেও কাজ করে কালোজিরা। কালো জিরা মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

 

বুকের দুধ বাড়াতে

যেসব মায়ের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের জন্য কালো জিরা মহৌষধ। এক্ষেত্রে মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালো জিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাবেন। এছাড়া এক চা চামচ কালো জিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ প্রতিদিন ৩ বার করে নিয়মিত সেবন করতে হবে।

 

 

চুল পড়া রোধে

কালোজিরার তেলের সুখ্যাতি আছে চুলপড়া রোধে।  এই তেল কেবল চুল পড়াই রোধ করে না, মাথার তালুতে যোগায় আর্দ্রতা। ফলে চুলের বৃদ্ধিও বেড়ে যায় বহুগুণে।

 

 

শ্বাসকষ্ট সারাতে

অ্যাজমা এবং ক্রনিক কাশির সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রেও ওষুধের মতো কাজ করে কালোজিরা। সকালে নাশতা খাওয়ার আগে গরম পানিতে মধু আর কালোজিরা মিশিয়ে টানা ৪০ দিন খেলে শ্বাসকষ্ট দূর হবে। এই সময়টুকুতে অবশ্য ঠান্ডা থেকেও নিজেকে রাখতে হবে দূরে। এভাবে ৪০ দিন কাটাতে পারলে কাশি এবং শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি মিলবে নিশ্চিতভাবেই।

 

অনিয়মিত মাসিকে

অনিয়মিত মাসিক স্রাব বা মেহ-প্রমেহ রোগের ক্ষেত্রে এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সঙ্গে এক চা চামচ কালো জিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে নিয়মিত কিছুদিন সেবন করতে হবে।

 

পাইলসের সমস্যা দূর করতে

কোষ্ঠকাঠিণ্যের সমস্যা যাদের আছে, তারাই জানেন এটি কতটা কষ্টদায়ক। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রং চায়ের সঙ্গে কালোজিরার তেল মিশিয়ে খান প্রতিদিন। 

এছাড়াও কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালো জিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। দাঁতের ব্যথায় পানিতে কালো জিরা দিয়ে ফুটিয়ে পানির তাপমাত্রা উষ্ণ অবস্থায় এলে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁত ব্যথা কমবে এবং মাঢ়ির ফোলা বা রক্ত পড়া বন্ধ হবে। এছাড়া জিহ্বা, তালু ও মুখের জীবাণু ধ্বংস হবে। ঠান্ডাজনিত মাথাব্যথা দূর করতে সুতি কাপড়ের টুকরায় কয়েকটি কালো জিরা নিয়ে পুঁটুলি তৈরি করে সেটি নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস টানতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা সেরে যাবে। এছাড়াও চোখে ব্যথা, জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি, ডায়াবেটিক রোগ ইত্যাদির ওষুধ হিসেবে কালোজিরা বেশ কর্যকরী।