Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারবেন আফগান নারীরা

শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। শিক্ষার আলো একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হতে সাহায্য করে। নারী হোক বা পুরুষ, সকল মানুষেরই সমান শিক্ষার অধিকার রয়েছে। কিন্তু এই শিক্ষার অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের বারবার বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। আর এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল আফগানিস্তান।

 

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণে সবচেয়ে ভয়ে রয়েছেন দেশটির নারীরা। সেই আশঙ্কা থেকেই চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন নারীরা। তবে প্রথম থেকেই তালেবানরা নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে, যদিও তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে সংশয়।

 

তালিবানি শাসনে সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল নারীর নিরাপত্তা ও নারী অধিকার নিশ্চিত। এর মধ্যে সবচেয়ে হুমকির মুখে ছিল নারী শিক্ষা। কারণ এর আগে যখন তালেবানরা আফগানিস্তান শাসন করেছিলো তখন মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১০ বছর বা এর চেয়ে বড় মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। তবে এবার এর ব্যতিক্রম দেখা দিয়েছে। আফগানিস্তানে নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান।

 

এবার তালেবানরা বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে ‘আফগান নারীরা শরিয়া আইনের অধীনে তাদের শিক্ষা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে’। নারী শিক্ষার দিকে এবার বেশ ঝুঁকেছে তালেবানরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তালেবানরা ঘোষণা দিয়েছে যে নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে। তবে এতে রয়েছে বেশ কিছু শর্ত। আর তা হল মিশ্র ক্লাস হবেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী মিশ্র ক্লাস নিষিদ্ধ। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়ে একসঙ্গে পড়তে বা ক্লাস করতে পারবে না।

 

তালেবানরা ইসলামিক, জাতীয় ও ঐতিহাসিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি যুক্তিসংগত ও ইসলামিক পাঠ্যক্রম তৈরি করতে চান। এছাড়াও অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতাতেও সক্ষম হতে চান। তালেবানের শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাতেও ছেলেমেয়েদের আলাদা করা হবে।