ঈদের খাবার হোক রয়ে সয়ে 

ঈদের খাবার হোক রয়ে সয়ে 
ঈদের খাবার হোক রয়ে সয়ে 
ঈদের দিন বলতে গেলে সারাদিনই আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবে বাসায় এটা সেটা খাওয়া হয়। ফলে তৈলাক্ত খাবারে হতে পারে পেটের  সমস্যা।  তাই খাওয়ার সময় অবশ্যই  কতটুকু খাচ্ছেন সেদিকে নজর রাখতে হবে। 

ঈদ মানে  খাওয়া দাওয়া আর জমপেশ আয়োজন। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর ঈদকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এলাহি আয়োজন করেন। খাওয়া দাওয়ায় থাকে রাজকীয় সব পদ। বিরিয়ানি, পোলাও, মাংসের হরেক রকম রেসিপি, ফিরনি, সেমাই আরো কত কি। আর সব বাড়ীতেই কম বেশি এসব আয়োজন হয়। একে অপরের বাসায় যাওয়া হয়। আর খাওয়া দাওয়াও হয়।  তবে এই সব মুখরোচক খাবার থেকে নিজেকে কিছু সামলে রাখতে হবে। খেতে হবে রয়েসয়ে।  

 

অনেকেই পেটের পীড়া, ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগতে পারে। ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগে যারা ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে না চললে দেখা দিতে পারে শারীরিক জটিলতা।  

 

ঈদের দিন বলতে গেলে সারাদিনই আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবে বাসায় এটা সেটা খাওয়া হয়। ফলে তৈলাক্ত খাবারে হতে পারে পেটের  সমস্যা।  তাই খাওয়ার সময় অবশ্যই  কতটুকু খাচ্ছেন সেদিকে নজর রাখতে হবে। 

 

ঈদের দিন আমিষ জাতীয় খাবার, যেমন: মুরগি, খাসি বা গরুর মাংস, কাবাব, রেজালা ইত্যাদি খাবারও  খাওয়া হয়। এমনকি অনেকের বাসায় চটপটি, দইবড়া কিংবা বোরহানির মতো টক খাবারেরও আয়োজন থাকে। এসব খেতে হবে পরিমাণ বুঝে। পারলে  সকালের দিকে এসব খাবার এড়িয়ে চলুন। 

 

যাদের পেটে গ্যাসের সমস্যা আছে, তারা আগে থেকেই  গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নিন । যাদের আইবিএস আছে, তারা চেষ্টা করুন দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে। দাওয়াতে গেলে পরিমিত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

 

লক্ষ্য রাখতে হবে পর্যাপ্ত পানি পান করার দিকেও। পানি কম খাওয়ায় অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। ঈদের দিন যথেষ্ট পানি খাবেন। যারা কোমল পানীয় সহ্য করতে পারেন, তার পরিমিত খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু কোনোভাবেই অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। 

 

অল্প বয়সের  যাদের কোন শারীরিক সমস্যা নেই, তারা নিজের পছন্দমতো খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন বেশি না হয়ে যায়।  তা না হলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 

 

এছাড়াও যারা  এনালফিশার ও পাইলসজাতীয় রোগে ভুগছেন, তাদের অনিয়মিত এবং অনিয়ন্ত্রিত খাবারের কারণে  পায়ুপথে জ্বালাপোড়া, ব্যথা ইত্যাদি বাড়তে পারে, এমনকি পায়ুপথে রক্তক্ষরণও  হতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে খাওয়ার ব্যাপারে।  প্রচুর পরিমাণে পানি, শরবত, ফলের রস, ইসবগুলের ভুসি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে বেশি করে। 

 

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি এধরণের সমস্যা  না থাকলেও মধ্যবয়সীদেরও ঈদের খাবারের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত খাবার  খেলে  পেট ভরা ভাব বা অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে। যা আপনার ঈদের আনন্দকে নষ্ট করে দিতে সক্ষম। 

 

ডায়াবেটিক রোগীকে অবশ্যই মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তারা বরং টক খাবারের মাধ্যমে রসনা পূরণ করতে পারেন। নেহাত মিষ্টি খেতে চাইলে চিনির বিকল্প দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। 

 

ঈদ আয়োজনে  কতটা আনন্দ করবেন তা সবসময়ই শরীর স্বাস্থ্য কতটা ভালো তার উপর নির্ভর করে। তাই নিজের ঈদের আনন্দকে অক্ষুণ্ণ রাখতে নিজেকেই হতে হবে সচেতন। খাবার টেবিলে তো এলাহী আয়োজন থাকবেই। তা বলে সবকিছু আপনাকে খেতে হবে এমন নয়। নিজের চাহিদা বুঝে পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন। কিছুটা স্বাস্থ্যকর আয়োজন রাখুন খাবার তালিকায়। পঁচা, বাসি, তৈলাক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। খাওয়ার পরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে শরীরকে একটু এনার্জিটিক করে নিন। 

 

খাবার তালিকাকে রাখুন স্বাস্থ্যসম্মত, সুস্থ থেকে ঈদকে করুন আনন্দঘন।