জড়ো পদার্থের সঙ্গে সঙ্গম ও ধর্ষকারী মন

জড়ো পদার্থের সঙ্গে সঙ্গম ও ধর্ষকারী মন
জড়ো পদার্থের সঙ্গে সঙ্গম ও ধর্ষকারী মন
যত দিন যাচ্ছে অত্যাচার ও নির্যাতনের মত ঘটনা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। নিজের ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং রাস্তাঘাট সকল স্থানে নারীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছে। যা থেকে বাদ পড়েনি হাসপাতালের মর্গও।

বাংলাদেশে ধর্ষণের পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধর্ষনের পর অত্যাচার করে হত্যার ঘটনাও এখন দৈনন্দিন ঘটনা। এসব দেখে একটা প্রশ্ন জেগে উঠে, নারীরা এখন কোথায় নিরাপদ?

 

যত দিন যাচ্ছে অত্যাচার ও নির্যাতনের মত ঘটনা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।  নিজের  ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং রাস্তাঘাট সকল স্থানে নারীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছে। যা থেকে বাদ পড়েনি হাসপাতালের মর্গও।

 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন নারী। যেখানে গতবছর ধর্ষনের এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১৩ নারী। ২০১৮ সালে এটার পরিমাণ ৭৩২ জন এবং ২০১৭ সালে ৮১৮ জন নারী। বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের অবস্থা জানার জন্য বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও প্রায় ১১০ টি সংগঠনের থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে ' মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থা ।  সেখানে দেখা যায়, শুধু এবছরই এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে ৪১ হাজার ৯৫৪ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

 

বর্তমান সময়ে খবরের কাগজে চোখ বুলালেই ধর্ষণের খবরে আমাদের আতঙ্কিত করে তোলে। এটি যেন এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোয়াখালীর সেই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখে গা শিউরে উঠেছিল। সিলেটে এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ,  লক্ষীপুরের রামগতিতে বিধবাকে দলবেঁধে ধর্ষণ। এবছরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের শিকার হয়। এসব আমাদেরকে প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত করে তোলে। সারাদেশে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের বিপক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা আন্দোলন করে। এরপর ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে একটি সংশোধনী  আইন অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তারপরও থেমে নেই ধর্ষণ। কড়া আইন এবং ফাঁসির ভয় থাকা স্বত্বেও নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এর শেষ কোথায়!

 

সম্প্রতি ' সাইবার সাপোর্ট ফর উইম্যান' নামে একটি সেবা চালু করেছে পুলিশ। যেসব নারীরা সাইবার অপরাধের শিকার তাদের সহায়তার লক্ষে এই সেবাটি চালু করা হয়েছে। আইডি হ্যাক, সাইবার বুলিং এবং সাইবার জগতে যারা যৌন হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন তারা এই ইউনিটে অভিযোগ করতে পারবেন।

 

এই উদ্যোগটি নারীদের জন্য খুবই জরুরি। কারন নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের অনেক সময় অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। সেই সঙ্গে করা হয় ব্ল্যাকমেইল।

 

সমাজে অধিকাংশ নারী মলেস্টের স্বীকার হন।  বাড়িতে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতে নিকট আত্নীয়দের কাছেও তারা নানা ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেলেও নিরাপদ কেউ৷ কেউ নারীদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। স্কুলের শিক্ষক, মাদ্রাসার হুজুর সবার কাছেই নারী অত্যাচার, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের শিকার।

 

সমাজ এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে, যে মারা যাবার পরেও একজন নারী নিরাপদ নয়। মৃত শরীর একটা জড় পদার্থ মাত্র। কিন্তু এই জড় পদার্থও এখন ধর্ষণের শিকার। ধর্ষক এটা থেকেও যেন লোভ সামলাতে পারছে না। কতটা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ হলে এসব কাজে করতে পারে। যার ছোবল থেকে বাদ যায়নি একজন মৃত নারীও। সবশেষে বলতে চাই, ধর্ষকের শাস্তি হতেই হবে। যতদ্রুত সম্ভব ধর্ষণের বিচার আগে করতে হবে৷ একজন নির্যাতিতার নয় বরং একজন ধর্ষকের পরিচয় সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।