Skip to content

১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মডেল অ্যাবি চোই হত্যা: নারীর প্রতি এত নৃশংসতা কেন

নারী নির্যাতন নিয়ে বলতে গেলে খুব একটা পেছনে ফিরতে হয় না। যদিও আবহমান কাল থেকেই নারীরা এ সমাজে নির্যাতিত ৷ রামায়ণের সীতা থেকে মহাভারতের দ্রৌপদী পর্যন্ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। বারবার এ সমাজ নারীকে ভোগের সামগ্রী করে তুলেছে। শোষণ-শাসনে নারী হয়ে উঠেছে পুরুষের খেলার পুতুল।

আর যেখানে পুরুষতন্ত্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেখানেই পুরুষ রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে। তবে নারী নির্যাতনের সঙ্গে শুধু স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ারই সংযোগ এমনটা নয়। বরং অধিকাংশ পুরুষের মানসিকতাই এমন যে, নারী মাত্রই দাসী৷ পায়ের নিচে পড়ে থাকতেই নারীর জন্ম। শুধু এই মানসিকতা বর্তমান সময়ে এসে বাঙালি পুরুষের মধ্যেই দেখা দেয় না। দেশ, কালভেদে সর্বত্রই নারীর জন্য কোনো আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে গড়ে ওঠেনি! নারী মাত্রই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অবহেলা-বঞ্চনা-নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। খুব আশ্চর্যজনক হলেও সত্য নারীর জীবন ধীরে ধীরে আরও করুণ হয়ে উঠছে। মডেল অ্যাবি চোই এর ঘটনা সে কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়।

নারীর জীবন যে কতটা নিরাপত্তাহীন হতে পারে অ্যাবি চোই তার চাক্ষুষ প্রমাণ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিভৎস এবং ভয়ংকর মানসিকতা একজন স্বাবলম্বী নারীর জীবনকেও নিঃশেষ করেছে সহজেই। এমন নৃশংসভাবে হত্যা নারীর জীবনের নিশ্চয়তাকে বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ করে! সত্যিকার অর্থে নারীরা কি কোনদিনই নিরাপদ হবে না এ সমাজে। পরিবার-পরিজন সর্বোপরি ঘরে-বাইরে কোথায় নারী একটু ভয়হীন চিত্তে জীবনযাপন করতে পারবে?

ঘটনাটি ঘটেছে হংকং-এ। একটি উন্নত দেশের জীবনমান উন্নত হলেও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি যে ইতিবাচক নয় তা এই ঘটনাটি দেখলেই বোঝা যায়। অ্যাবি চোই হংকংয়ের অভিনেত্রী এবং মডেল। তার মৃত্যুকে ঘিরে এতটাই রহস্যের জাল বিস্তার হয়েছে যা যেকোনো থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়। তাকে হত্যার পর তার দেহের টুকরো বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছে। ফ্রিজের ভেতর তার শরীরের টুকরো টুকরো মাংসের সন্ধান মিলেছে। এছাড়া মাথার খুলি মিলেছে খাবারের পাত্রে!

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অভিনেত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের অভিযানে তার শরীরের টুকরো টুকরো অংশ উদ্ধার হয়। এছাড়া তাঁর বাড়ি থেকে একটি রান্নার পাত্রে একটি যুবতী মহিলার মাথার খুলি উদ্ধার হয়। সকলেরই সন্দেহ হয়েছিল এটা চোই। মাথার খুলির ডানদিকে একটা চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়, যা দেখে মনে করা হচ্ছে কোনো জোরদার আঘাত করা হয়েছে তাঁর মাথায়। চোই এর প্রাক্তন স্বামী এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। কিছু টাকা পয়সা নিয়েও সমস্যা চলছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ভয়াবহ ঘটনার শিকার অভিনেত্রী অ্যাবি চোই। তবে ঘটনাটি তার সঙ্গে ঘটলেও নারীর জীবন কতটা অনিরাপদ তা এর মাধ্যমে উঠে এসেছে। এবং শুধু অ্যাবি চোই নয় দেশ- কালকে পেরিয়ে নারীরা সর্বত্র এমন বিভৎস নৃশংসতার শিকার হচ্ছে!

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির যেন কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেলক্ষে মানবিক মানুষ গড়ে তোলা জরুরি। যদি মানুষ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়, জীবনকে মূল্যায়ন করতে না পারে তবে কিছুতেই নৃশংসতা কমবে না। তাই দেশকে উন্নত করার চেয়ে দেশের মানুষের মন-মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করতে হবে। জীবনে সমস্যা আসবেই কারণ সমস্যাহীন পৃথিবী অকল্পনীয়। তাই হিংস্রতা কোনো সমাধান নয়। বরং মনের রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করতে হবে অপরের কল্যাণের স্বার্থে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ