Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অসচেতনতা বাড়াচ্ছে নারী মৃত্যুর হার

বর্তমান সময়ে নারী যখন পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ চালানোর মতো কাজ করছে তখন কোথাও দেখা যাচ্ছে নারী সহিংসতা বেড়ে যাচ্ছে। আর এই সহিংসতা ও অসচেতনতা বাড়িয়ে তুলছে নারী মৃত্যুর হার। আগস্ট মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরুষের তুলনায় নারীর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে টিকা না দেওয়া, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অসচেতনতা এবং ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারই নারী মৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে। 

 

প্রথম বারের মতো নারী মৃতের সংখ্যা পুরুষকে ছাড়িয়ে যায় ১২ আগস্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঐ দিনের তথ্যমতে, ১০৮ জন নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং পুরুষ মৃতের সংখ্যা ১০৭ জন। ৩০ আগস্ট শেষ বারের মতো পুরুষের তুলনায় নারীর মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যায়। ঐ দিনে মোট ৯৪ জন মৃতের মধ্যে ৪৯ জন নারী এবং ৪৫ জন পুরুষ ছিলেন। এর এক দিন আগে পর পর দুই দিন নারী মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল। ২৯ আগস্ট মৃতের মধ্যে ৪৮ জন নারী ও ৪১ জন পুরুষ ছিল এবং ২৭ আগস্ট নারী মৃতের সংখ্যা ৬১ এবং পুরুষ মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৬। 

 

শুরু থেকে পুরুষের তুলনায় নারী আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও চলতি বছরের ১ লা মার্চ হতে দৈনিক মৃত্যুর খাতায় নারী ও পুরুষের মৃতে সংখ্যা প্রায় সমান দেখা যায়। মূলত মার্চ মাস থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী নারী মৃতের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ২০২০ সালের মার্চ মাসেই প্রথম মৃত্যু হয় করোনায়। ঐ মাসেই করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়। এক বছর পরে ২০২১ সালের মার্চ মাসে  করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৬ জন। এ সময় নারীর মৃত্যুর হার ছিল ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং পুরুষ মৃত্যুর হার ৭৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। পাঁচ মাস পরে আগস্টে এসে দেখা যায় নারী মৃত্যুর হার বেড়ে ৩৫ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং পুরুষ মৃত্যুর হার কমে ৬৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়। জুলাইয়ে নারীর মৃত্যুর হার বেড়ে ২৯ শতাংশে উঠে যায়। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তা ৩৩ শতাংশ ছড়ায়। মহামারীর এক বছরে নারী মৃত্যুর হার পুরুষের অর্ধেকেরও অনেক কম ছিল। 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস পরিচালক ও এইচআইএস এবং ই হেলথ লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, নারীরা স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তুলনামূলক ভাবে কম সচেতন। তারা বাড়ির কেউ আক্রান্ত হলে তাদের সেবা করার সময় স্বাস্থ্যবিধি মানে না। আবার নিজেদের রক্ষা করার জন্য টিকাও নেয় না। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নারী মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার জন্য ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মূল কারণ হল টিকা না নেওয়া। এখন আবার নারীরাই বেশি বাইরে বের হচ্ছে। 

 

গত ১২ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ সময় ১ হাজার ২৮৬ জন নারী এবং ১ হাজার ৪২৫ জন পুরুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মোট সংখ্যার হিসেবে নারীর মৃত্যু কম হলেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের পর আগস্ট মাসেই নারী মৃত্যুর হার লাফিয়ে বাড়ে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১ম ডোজ টিকা গ্রহণ করে মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ৬ লাখ বিশ হাজার ৮৩৯ এবং নারী ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৩ জন। ঐ দিন পর্যন্ত ৫৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৪২ দশমিক ৫৬ শতাংশ নারী প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করে। 

 

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এ প্রসঙ্গে মনে করেন, অনেকগুলো কারণেই নারীর করোনায় মৃত্যু বেড়েছে। নারীরা বেশি সংক্রমিত হচ্ছে বলেই বেশি মারা যাচ্ছে। নারীরা এখন ঘরে বাইরে বেশি বের হচ্ছে। শনাক্তকরণে অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেশি। আবার ডেলটার পরিবর্তিত ধরন হরমোনের কারণেই নারী ও শিশু বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আর টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কম থাকায় একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, নারীর নিজের প্রয়োজনে নিজে আগ্রহী হলে ভালো, আর তা না হলে সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে নারীকে টিকার আওতায় আনতে হবে। 

 

পুরুষদের পাশাপাশি যাতে নারীরাও সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং টিকা গ্রহণে আগ্রহী হয় সেদিকে সকলের নজর দিতে হবে। তবেই নারী মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হয়ে উঠবে।