করোনা প্রতিরোধে লাঠি হাতে প্রমীলা বাহিনী

করোনা প্রতিরোধে লাঠি হাতে প্রমীলা বাহিনী
করোনা প্রতিরোধে লাঠি হাতে প্রমীলা বাহিনী
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কোন বহিরাগতকে এই গ্রামে ঢুকতে দেন না তারা। নিজেরাও সচরাচর গ্রাম ছেড়ে বের হন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য গ্রামের দু’জন যুবককে নিয়োগ করেছেন তারা। ওই দু’জনই প্রয়োজন জেনে গ্রামের বাইরে গিয়ে সেসব নিয়ে আসেন ও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন।

ভারতজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে। দেশটির প্রতিটি জেলায়, গ্রামে-গঞ্জে ঢুকে পড়েছে ভাইরাসটির সংক্রমণ। ভয়াবহ সংক্রমণের মধ্যেও মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার চিখালার গ্রামকে স্পর্শ করেনি করোনা। ইতোমধ্যেই সংক্রমণ মোকাবিলার ব্যবস্থায় নজির তৈরি করেছে এই গ্রাম। গ্রামের নারীরা ভাইরাস ঠেকাতে লাঠি হাতে পালা করে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। অকারণে রাস্তায় কাউকে বের হতে দেখলে রীতিমতো লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ঘরে ফেরত পাঠান তারা। এখনো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি করোনাভাইরাস। আর এর পুরো কৃতিত্ব গ্রামের নারীদের।

 

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কোন বহিরাগতকে এই গ্রামে ঢুকতে দেন না তারা। নিজেরাও সচরাচর গ্রাম ছেড়ে বের হন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য গ্রামের দু’জন যুবককে নিয়োগ করেছেন তারা। ওই দু’জনই প্রয়োজন জেনে গ্রামের বাইরে গিয়ে সেসব নিয়ে আসেন ও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন।


গ্রামটিতে প্রবেশের মূল রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে দিনের ২৪ ঘণ্টা পালা করে লাঠি হাতে পাহারা দেন গ্রামের নারীরা। বিনা প্রয়োজনে কাউকে রাস্তায় ঘুরতে দেখলে পেটাতেও পিছপা হন না তারা। 

 

চিখালার গ্রামটি এতদিন দেশি মদের জন্য কুখ্যাত ছিল। বেআইনি দেশি মদ তৈরি করেই মূলত জীবিকা নির্বাহ করত গ্রামবাসী। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, গ্রামটিতে ৮৭টি পরিবারের বাস, জনসংখ্যা সব মিলিয়ে ৪৭৬। গ্রামে ২৪০ জন নারী ও ২৩৬ জন পুরুষ।  গ্রামের প্রায় সবারই উপার্জনের একমাত্র উপায় ছিল মদ তৈরি ও বিক্রি।  কিন্তু করোনা ঠেকাতে ওই গ্রামের নারীদের এই উদ্যোগ ভারতের জন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।