Skip to content

২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের একমাত্র নারী বডিবিল্ডার ফাতেমা

বর্তামানে বাংলাদেশের অন্যতম একজন বডি বিল্ডার হলেন ফাতেমা সুলতানা। ৭ বছর বয়সী কন্যা সন্তানের মা ফাতেমা হলেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একমাত্র নারী বডি বিল্ডার। তিনি চট্টগ্রামের বৃহৎ ফিটনেস সেন্টারের একজন মাস্টার ট্রেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে হঠাৎ করেই তিনি বডি বিল্ডার হয়ে ওঠেননি। এর জন্য তাকে তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এক সময় তার শারীরিক ওজন ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। স্থুলকায় ছিলেন তিনি। প্রথম সন্তান হওয়ার পর তার ওজন প্রায় ৭৫ কেজি হয়ে যায়। সেই থেকেই তিনি কীভাবে এই বাড়তি ওজন কমিয়ে নিজেকে আবার ফিট রাখা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সুস্বাস্থ্যে ফিরে যেতে তিনি জিম জয়েন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু স্বামীর চাকরির সুবাদে আমি ফেনীতে থাকার কারণে কোন জিমে জয়েন করতে পারেননি। কারণ ফেনীতে তখন নারীদের কোন ফিটনেস সেন্টার ছিল না।

পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে মায়ের বাসায় মাস খানেকের জন্য বেড়াতে এসে তিনি জিমে ভর্তি হন। এখানে মাত্র কয়েকমাস জিম করেই শারীরিক ওজন ৭৫ কেজি থেকে ২৫ কেজি কমিয়ে ৫০ কেজিতে নামিয়ে আনেন। এক সময় স্বামীর বদলী সূত্রে স্থায়ীভাবে চট্টগ্রাম চলে আসেন এবং জিমে শরীর চর্চাও নিয়মিত শুরু করে দেন। বাধ্য হয়ে শরীর চর্চা করতে করা শুরু করলেও পরবর্তীতে এটি তার ভালোবাসা এবং নেশা হয়ে উঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেকে একজন নারী বডি বিল্ডার এবং নারী ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে তৈরি করার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তিনি।

আমেরিকান প্রতিষ্ঠান NESTA থেকে ‘ফিটনেস অ্যান্ড ফিগার ট্রেইনিং স্পেশালিস্ট’ বিষয়ে ১ বছর মেয়াদি একটি অনলাইন কোর্স করেন ফাতেমা সুলতানা। এরপর তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে একজন পারসোনাল ট্রেনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালে হ্যামার স্ট্রেংথ ফিটনেস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত মিস্টার অ্যান্ড মিস হ্যামার স্ট্রেংথ প্রতিযোগিতায় বেস্ট ফিগারের জন্য অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন ফাতেমা। এরপর থেকেই ফিটনেস নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আরো বেড়ে গিয়েছিল, সেই আগ্রহ থেকেই ফিটনেসের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

 

ফাতেমা সুলতানা জানান, তিনি ২০১৯ সালের শেষের দিকে চট্টগ্রামের বহুল পরিচিত ফিটনেস সেন্টার ‘আলবিরাজ জিম সেন্টারে’ ট্রেইনি হিসেবে জয়েন করেন। সেখানে জয়েন করার পর তিনি ঢাকায় আয়োজিত ‘পাওয়ারলিফটিং কম্পিটিশন সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এই প্রতিযোগিতায় বডি বিল্ডিংয়ে সারাদেশের নারী প্রতিযোগীদের মধ্যে ৫ম স্থান অধিকার করেন।

স্বামীর পূর্ণ সাপোর্টের কারণে তিনি নিজেকে একজন বডি বিল্ডার হিসেবে গড়তে পেরেছেন। শরীর চর্চা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানান, রক্ষণশীল পরিবারে আমি থাকায়, তাই প্রতিটি পদে পদে আমার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, এখনো এই বাধার কারণে তার স্বপ্নটাকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারছেননা।

ফাতেমা সুলতানা নিজে একটা ফিটনেস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে চান। যেহেতু চট্টগ্রামে এখনো মেয়েদের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ আলাদা জিম সেন্টার নেই, তাই তিনি এটা নিয়ে কাজ করতে চান।
ফাতেমা আরো বলেন, ‘বডি বিল্ডিং কম্পিটিশনে শারীরিক মানসিক ডেডিকেশনের সঙ্গে অর্থেরও প্রয়োজন, কারণ এটা অনেকটা ব্যয়বহুল শখও বলা যায়। কোন প্রকার স্পন্সরশিপ ছাড়া নিজের জমানো অর্থের মাধ্যমে শখ পূরণের জন্য নেমে পড়েছিলাম। বাংলাদেশে স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা স্ট্রং হলে বডি বিল্ডিংয়ে অনেক ভালো খেলোয়াড় উঠে আসতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।’ 

সব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারীদের জন্য একটি পরিপূর্ণ ফিটনেস সেন্টার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নটি যেন বাস্তবে রূপ দিতে পারেন, সে জন্য তিনি সবার দোয়া প্রত্যাশা করেন।