Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মোনালিসা আসলে লিসা নন?

 

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির চিত্রকর্ম মোনালিসার কথা শোনেননি এমন হয়তো কেউ নেই। পোট্রেটে এক নারীর রহস্যময় হাসির জন্য বিশ্ববিখ্যাত হয়ে রয়েছে এই চিত্রকর্মটি। বর্তমানে ফ্রান্সের ল্যুভ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে পাঁচশ বছর আগে আঁকা এই পোট্রেটটি। এখানে এখনও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শুধু মোনালিসার রহস্যময় হাসি দেখতে আসেন। 

 

ভিঞ্চি আসলে কার পোট্রেট তৈরি করেছিলেন সে প্রশ্ন মোনালিসার হাসির মতোই রহস্য হয়ে আছে। এই পোট্রেট্টির নারী নিয়ে রয়েছে অনেক মত। তবে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত যে ব্যাখ্যা, তা হল- পোট্রেটের এ নারী ফ্লোরেন্সের তৎকালীন একজন সিল্ক ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা গেরারদিনি। কিন্তু ফ্রান্সের একজন গবেষক ১০ বছর ধরে গবেষণার পর বলছেন, প্রোট্রেটের রহস্যময়ী এ নারী অন্য কেউ ছিলেন। আর এ তত্ত্ব নিয়ে শিল্পী মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

 

প্যারিসের বিজ্ঞানী পাসকাল কোট ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, ক্যানভাসের মোনালিসার পেছনে তিনটি আলাদা আলাদা ইমেজ। তৃতীয় যে ইমেজটি তিনি খুঁজে পেয়েছেন, সেটি অন্য এক নারীর মুখ, তার ঠোঁটে কোন হাসি নেই। এই বিজ্ঞানী একরকম নিশ্চিত ক্যানভাসে খালি চোখে না দেখতে পাওয়া সেই মুখই লিসা গেরারদিনির।

 

পাসকাল কোট বলছেন, তিনি দেখেছেন ক্যানভাসের মোনালিসার পেছনে তিনটি আলাদা আলাদা ইমেজ। তৃতীয় যে ইমেজটি তিনি খুঁজে পাচ্ছেন সেটি অন্য এক নারীর মুখ, তার ঠোঁটে কোনো হাসি নেই। এই বিজ্ঞানী একরকম নিশ্চিত ক্যানভাসে খালি চোখে না দেখতে পাওয়া সেই মুখই লিসা গেরারদিনির। পাসকাল কোটের এই তত্ত্ব গত একশ বছরে শিল্প জগতের সবচেয়ে সাড়া জাগানো খবর।

 

''আমি মনে করি নতুন এই আবিষ্কার শিল্প জগতের ইতিহাসের পুকুরে বিশাল এক পাথর ছুঁড়ে মারার মত ঘটনা। মোনালিসা সম্পর্কে আমরা এতদিন ধরে যা বিশ্বাস করতাম, তাতে বড় ধরণের ঘা পড়েছে। আমি অন্তত এখন আর বলবো না যে ছবির ঐ নারী মোনালিসা। বরঞ্চ অন্য কেউ।''

 

তবে লিওনার্দো নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের অনেকেই নতুন এই তত্ত্বকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নন। অক্সফোর্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ের আর্ট হিস্ট্রির অধ্যাপক মার্টিন কেম্প মানতে রাজি নন দ্য ভিঞ্চি, লিসা গেরারদিনির মুখের ওপর দিয়ে পরে অন্য কোন নারীকে এঁকেছিলেন।

 

''পাসকাল যে সব গবেষণা তথ্য হাজির করেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরগুলোতে এ নিয়ে বহু কথাবার্তা হবে। কিন্তু আমি মনে করি লিওনার্দো ফ্লোরেন্সের তৎকালীন প্রচলিত কায়দায় মোনালিসার পোট্রেট আঁকা শুরু করেন, যেটিতে হয়ত পরে তিনি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিলেন। পাসকাল তার গবেষণায় দেখেছেন ছবিটি আঁকার বিভিন্ন পর্যায়ে লিওনার্দো কি কি ভেবেছেন, কিভাবে এগিয়েছেন, কিন্তু মোনালিসার মূল পোট্রেট ঢাকা পড়ে গেছে, সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।''

 

অন্য এক গবেষণায় আসল মোনালিসার সঙ্গে আটটি ‘দুঃখী মোনালিসা’ দেখানো হয়। এবারের এডিট করা ছবিগুলোতে তাকে আগের বারের চেয়েও বেশি দুঃখী করে দেখানো হয়। কিন্তু এবারও আসল ছবির নারীকে হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছে বলে জানিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবকরা। 

মোনালিসা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, এখনো অনেক গবেষণা চলছে। এই মোনালিসার ছবির পুরো রহস্য এখনো উদঘাটন সম্ভব হয়নি।