বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
বিশ্লেষণ

চ্যাটজিপিটিতে আসছে ‘লকডাউন মোড’, কতটা নিরাপদ আপনার তথ্য?

1682428844611

চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই অজান্তেই ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এই তথ্যের পরিমাণ এতটাই বেশি হয় যে তা ভুল হাতে পড়লে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই নতুন নিরাপত্তা ফিচার ‘লকডাউন মোড’ চালু করেছে ওপেনএআই।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, মূলত ‘প্রম্পট ইনজেকশন’ নামের একটি জটিল সাইবার হামলা থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতেই এই ফিচার আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের হামলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

কী এই প্রম্পট ইনজেকশন হামলা?

এই কৌশলে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও বা অনলাইন কনটেন্টে গোপন নির্দেশনা যুক্ত করে রাখে। পরে কোনো চ্যাটবট ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সেই উৎসে গেলে লুকানো নির্দেশনাগুলো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফলে চ্যাটবট বিভ্রান্ত হতে পারে, ভুল তথ্য দিতে পারে কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তি বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ প্রম্পট ইনজেকশনকে এআই যুগের অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

কীভাবে কাজ করবে লকডাউন মোড?

ওপেনএআই জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্যই মূলত ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। লকডাউন মোড চালু থাকলে বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে আসা নির্দেশনা ও তথ্যের ওপর চ্যাটজিপিটির নির্ভরতা সীমিত হয়ে যাবে।

তবে এর বিনিময়ে ব্যবহারকারীদের কিছু সুবিধা ছাড় দিতে হবে। এই মোড চালু থাকলে ওয়েব ব্রাউজিং, ডিপ রিসার্চ, এজেন্টভিত্তিক কিছু ফিচার এবং ইন্টারনেট থেকে সরাসরি তথ্য আনার সক্ষমতা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যাবে।

ছবি তৈরির সুবিধা থাকলেও তখন নতুন করে ওয়েব থেকে তথ্য সংগ্রহ না করে আগে সংরক্ষিত কনটেন্টের ওপর নির্ভর করবে চ্যাটজিপিটি।

লকডাউন মোড নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে, তবে সব ধরনের হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।

কারণ, কোনো ক্ষতিকর নির্দেশনা যদি আগে থেকেই ক্যাশে সংরক্ষিত কনটেন্ট বা ব্যবহারকারীর আপলোড করা ফাইলের মধ্যে থাকে, তাহলে সেই ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে।

কারা পাবেন এই সুবিধা?

প্রাথমিকভাবে ফিচারটি ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য চালু করা হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

সেটিংসের ‘অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি’ অংশে গিয়ে ‘সিকিউরিটি’ অপশন থেকে লকডাউন মোড চালু করা যাবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হবে না। ব্যবহারকারীকে নিজ উদ্যোগে ফিচারটি চালু করতে হবে।

এ ছাড়া লকডাউন মোড ও ডেভেলপার মোড একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। একটি চালু থাকলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে নতুন এই নিরাপত্তা ফিচার কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করা ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বাড়তি সুরক্ষার একটি স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচ্যাটজিপিটিলকডাউন মোড