৩ নভেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

লাখ লাখ টন হীরার ওপর গড়ে উঠেছে যে শহর

d6e6d3537cb9bb9c689d8a118f0e3b2d

জার্মানির একটি শহর গড়ে উঠেছে লাখ লাখ টন হীরার ওপর—এমন তথ্য অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে দেশটির ব্যাভারিয়া অঞ্চলে অবস্থিত নর্ডলিঙ্গেন শহরের বাস্তবতা ঠিক এমনই। প্রাচীন একটি গ্রহাণুর আঘাতে তৈরি বিশাল গহ্বরের ওপর গড়ে ওঠা এই শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ও স্থাপত্যের উপাদানে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ক্ষুদ্র হীরা।

নর্ডলিঙ্গেন শহরটি একটি বিশাল উল্কাপাতজনিত গহ্বরের ওপর অবস্থিত। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টাব্দ ৮৯৮ সালে সেখানে প্রথম জনবসতি গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে মধ্যযুগে বহিরাগত আক্রমণ থেকে শহরকে সুরক্ষিত রাখতে এর চারপাশে নির্মাণ করা হয় উঁচু প্রাচীর। বর্তমানে জার্মানির অক্ষত মধ্যযুগীয় প্রাচীরবেষ্টিত শহরগুলোর মধ্যে নর্ডলিঙ্গেন অন্যতম। দেশটিতে এ ধরনের শহর রয়েছে মাত্র তিনটি।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ার সময় সৃষ্টি হয়েছিল প্রচণ্ড তাপ ও চাপ। সেই পরিস্থিতিতে তৈরি হয় ‘সুয়েভাইট’ নামের বিশেষ এক ধরনের পাথর। এতে রয়েছে ক্রিস্টাল, কাচ এবং অতি ক্ষুদ্র হীরার কণা।

শহরের ঐতিহাসিক গির্জাটি নির্মাণে এই সুয়েভাইট পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে গির্জার দেয়ালেও ছড়িয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ক্ষুদ্র হীরা। হিসাব অনুযায়ী, শুধু গির্জাটির দেয়ালেই প্রায় পাঁচ হাজার ক্যারেট হীরা রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, পুরো নর্ডলিঙ্গেন শহরজুড়ে প্রায় ৭২ হাজার টন ক্ষুদ্র হীরা ছড়িয়ে আছে। তবে এত বিপুল পরিমাণ হীরা থাকলেও তা থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব হীরার প্রতিটি কণা এতটাই ছোট যে সেগুলো আলাদাভাবে সংগ্রহ বা বাজারজাত করার মতো মূল্যবান নয়।

এ কারণে হীরার বিশাল ভান্ডারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও নর্ডলিঙ্গেনের বাসিন্দাদের কাছে তা সম্পদের উৎস নয়; বরং শহরটির ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য।

Advertisements
Advertisements