২ নভেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

রাতেই আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’

54f124c3d7d106c40fafc65a0975f7e5-6ae8192a9516a

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ক্রমেই ভারতের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) রাত নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ইতিমধ্যে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৮-এ ঘূর্ণিঝড়টির সর্বশেষ অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, সোমবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ১৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। সে সময় এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি।

ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। তবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের আশপাশের সাগরও বেশ বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

Advertisements

বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ও সম্ভাব্য গতিপথ বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার পূর্বাভাস না থাকলেও এর গতিপথ ও সাগরের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই সমুদ্রে থাকা জেলেদের সতর্কতা মেনে চলার পাশাপাশি পরবর্তী আবহাওয়া বার্তার প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisements