Skip to content

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হ্যাপি প্রেগন্যান্সি

 

একজন নারীর জীবনের সর্বোত্তম অর্জন হচ্ছে মাতৃত্ব। প্রত্যেক নারীই একটা মেয়ে শিশু থেকে বেড়ে উঠতে উঠতে একটা পর্যায়ে এসে নিজেকে মায়ের রূপে আবিষ্কার করতে চায়। মাতৃত্বই একজন নারীকে নারীত্বের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণে সাহায্য করে থাকে। কৈশোর থেকেই নারী নিজেকে মা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে। শিশু থেকে মা হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় নারীকে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয়। সম্মুখীন হতে হয় নানা বাধা-বিপত্তির। কিভাবে এই সকল বিপত্তি এড়িয়ে এই প্রেগন্যান্সি নারীর জন্য আরো সুখকর হতে পারে সেই বিষয়েই কথা বলছিলাম অধ্যাপক সালমা ইয়াসমিনের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজে গাইনি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর ভাষ্য মতেই প্রেগন্যান্সির সাতকাহন নিচে তুলে ধরা হলো :

গর্ভধারণের জন্য শারীরিক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমেই আসা যাক, বয়সের ব্যাপারে। একজন মেয়ে ১৮-৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত শারীরিকভাবে সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুত হলেও ২০ থেকে ২৬ বছর বয়সই সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময়। আমরা সাধারণত, ১৮-এর আগে বিয়ে নয় এবং ২০-এর আগে সন্তান নয় এই স্লোগান ধরে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপর আসা যাক, ওজনের ক্ষেত্রে। সন্তান ধারণের      জন্য একজন নারীর ওজন কমপক্ষে ৪৫কেজি হতে হবে। অন্যথায় মা ও শিশু উভয়ের জন্যেই তা ক্ষতিকর।

গর্ভধারণের ক্ষেত্রে নানাঝুঁকি থাকতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কম ওজন বা সঠিক বয়সের আগে সন্তান ধারণ একটি মুখ্য কারণ। তাই সঠিক বয়সের আগে কখনোই সন্তান ধারণ করা উচিত  নয়।

নারী গর্ভবতী কিনা তার পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরানো অধিক প্রচলিত হলেও প্রথম লক্ষণ হচ্ছে রজঃচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া। তাই যখনই কোনো বিবাহিত নারীর রজঃচক্র বন্ধ হয়ে যায়, তারপর বমি বমি ভাব, খাবারে অরুচি, মাথা ঘোরা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয় তখনই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

একটি শিশুর মায়ের পেট থেকে পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে ৯ মাস দশদিনের মতো। এই ৯ মাসকে তিনমাস করে করে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম তিন মাসে এবং শেষ তিন মাস মাকে একটু বেশিই সতর্ক থাকতে হয়। নিজের এবং বাচ্চার সুস্থতার জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন খেতে হয়, অধিক কাজ বা ভারি কাজ করা যাবে না, স্বামীর সাথে যৌনমিলন করা যাবে না এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজের দেখভাল করতে হয়। প্রথম তিন মাস মায়েরা খাবারদাবারে অরুচিতে ভোগেন। এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই এই সময় একটু জোর করেই খাবার খাওয়া উচিত। মাঝের তিনমাস মায়েদের একটু ভালো অবস্থা থাকে, অন্য সময়ের তুলনায়। তাই এই সময় একটু হালকা পাতলা ঘরের কাজকর্ম করতে পারেন মায়েরা। এবং সবুজ শাকসবজির সাথে মৌসুমি ফল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ গ্রহণ করা উচিত। হাঁটাহাঁটি করা এবং গায়ে রোদ লাগানোও মায়ের এবং শিশুর দুজনের জন্যেই মঙ্গলকর।

প্রেগন্যান্সি বা মাতৃত্ব নারীকে যেমন পূর্ণতা দেয় তেমনি নারীর সামগ্রিক দৈহিক গঠনেই পরিবর্তন আসে এবং মানসিকভাবেও নারীরা এসময় অনেক আবেগী হয়ে পড়েন। এ-সময়ে একজন নারীর জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন আসে। অনেক ভালোবাসা এবং সহানুভূতিশীল আচরণ আশা করে থাকে হবু মায়েরা। ভালো খাবারদাবারের সাথে আশপাশের মানুষের একটু বাড়তি ভালোবাসা এবং বাড়তি যতেœরও তাই প্রয়োজন আছে।

ধীরে ধীরে সময় এগিয়ে যায় এবং একজন নারী সন্তান জন্মদানের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময়ে অনেকের মনেই অনেক ধরনের ভয় কাজ করে। ডেলিভারি নর্মাল নাকি সিজার এই নিয়ে উৎকণ্ঠা কাজ করে। শিশুর নর্মাল ডেলিভারি শিশু এবং মা উভয়ের জন্যেই উপকারী। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং সব ঠিক থাকলে নর্মাল ডেলিভারির জন্যেই প্রস্তুত করা উচিত। এবং এক্ষেত্রে যদি হবু মায়েরা কিছু ব্যায়াম অনুসরণ করেন তাহলে সন্তান জন্মদানের সময় খুব বেশি জটিলতা দেখা দেয় না।

সন্তান জন্মদানের সময় নানাধরনের ভয় কাজ করে মায়েদের মনে। তাই পরিবারের সবার উচিত এই হবু মায়েদের পাশে থেকে তাদের মনোবল বাড়ানো। সন্তান জন্মদানের পরও মায়েদের অনেক সচেতন থাকতে হয়। যেহেতু সন্তান মায়ের বুকের দুধ থেকেই যাবতীয় পুষ্টি পায়। তাই সন্তান জন্মদানের পরেও মায়েদের অধিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা  উচিত।