৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

দেখতে তুলোর বলের মতো!জাপানের এই পাখিকে কেন বলা হয় বরফের পরী?

IMG_58288537-f991-46e4-9e42-92aeca2b7bda

বরফের মতো সাদা শরীর, তুলতুলে পালক, ছোট্ট গোলাকার মুখ আর পেছনে লম্বা লেজ—দেখলে মনে হবে যেন কোনো রূপকথার রাজ্য থেকে উড়ে এসেছে এক পরী। অথচ এটি কোনো কল্পনার চরিত্র নয়, বাস্তবেরই এক আশ্চর্য সুন্দর পাখি। নাম তার শিমা এনাগা। জাপানের হোক্কাইদো অঞ্চলে দেখা পাওয়া এই পাখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাখিপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে আদর করে একে ডাকেন ‘স্নো ফেইরি’ বা বরফের পরী।

বরফের রাজ্যের তুলতুলে বাসিন্দা

শিমা এনাগার সৌন্দর্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর তুলতুলে সাদা শরীর। ছোট্ট গোল মুখ, কালো চোখ আর নরম পালকের কারণে পাখিটিকে দেখতে অনেকটা তুলোর বলের মতো লাগে। এর শরীরের সঙ্গে মানানসই লম্বা লেজ পাখিটির চেহারায় যোগ করেছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। শীতের সাদা পরিবেশে বসে থাকা শিমা এনাগাকে দেখে মনে হয়, বরফের ওপর যেন ছোট্ট একটি জীবন্ত পুতুল বসে আছে।

পাখিটি মূলত জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইদো দ্বীপে দেখা যায়। শীতল আবহাওয়া, তুষারাবৃত পরিবেশ এবং বনভূমির সঙ্গে এর উপস্থিতি মিলেমিশে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। এ কারণেই পাখিটিকে ঘিরে মানুষের কল্পনায় তৈরি হয়েছে বরফের পরীর রূপকথা।

নামের পেছনেও রয়েছে গল্প

জাপানি ভাষায় ‘শিমা’ শব্দের অর্থ দ্বীপ। আর ‘এনাগা’ বলতে বোঝানো হয় লম্বা লেজওয়ালা পাখি। নামের এই অর্থের সঙ্গে পাখিটির ভৌগোলিক পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের চমৎকার মিল রয়েছে। তবে শিমা এনাগা আলাদা কোনো সম্পূর্ণ পাখিগোষ্ঠী নয়; এটি লং-টেইলড টিট নামে পরিচিত পাখির একটি উপপ্রজাতি। এই প্রজাতির আত্মীয় পাখি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও দেখা যায়।

Advertisements

শিমা এনাগার মুখের বিশেষত্ব হলো, এর মুখমণ্ডল প্রায় সম্পূর্ণ সাদা। লং-টেইলড টিটের অনেক অন্য উপপ্রজাতির মুখে গাঢ় রঙের দাগ দেখা গেলেও হোক্কাইদোর শিমা এনাগার মুখ তুলনামূলকভাবে সাদাটে। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে অন্যদের তুলনায় আরও স্বতন্ত্র করে তুলেছে।

শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ

আকারে ছোট হলেও শিমা এনাগা প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ বাসিন্দা। অন্যান্য ছোট পাখির মতো এটি গাছপালার মধ্যে খাবার খুঁজে বেড়ায়।

পোকামাকড় ও তাদের লার্ভা এর খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খলেও রয়েছে এর ভূমিকা। শিমা এনাগার ছবি ও ভিডিও দেখে অনেকেই পাখিটির প্রেমে পড়েন। তবে এর প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা এবং বন্য প্রাণীকে অযথা বিরক্ত না করা।

সত্যিই কি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পাখি?

সৌন্দর্যের কোনো সর্বজনস্বীকৃত মাপকাঠি নেই। কারও কাছে ময়ূরের বর্ণিল পেখম, কারও কাছে স্বর্গের পাখির বিচিত্র পালক, আবার কারও কাছে শিমা এনাগার সরল শুভ্রতাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ছোট্ট এই পাখি তার অনন্য চেহারা দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নতুনভাবে চিনিয়ে দিয়েছে। বরফের রাজ্যে তার উপস্থিতি যেন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সবচেয়ে মুগ্ধকর বিস্ময়গুলো অনেক সময় আকারে ছোট হলেও সৌন্দর্যে অসাধারণ।

Advertisements