২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১২ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

একসময় র‍্যাম্প মাতিয়েছেন, এখন কেন আড়ালে মেহর জেসিয়া?

IMG_6981

বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপালের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা উঠলেই ফিরে আসে তাঁর সাবেক স্ত্রী মেহর জেসিয়ার নাম। তবে মেহরকে শুধু অর্জুনের সাবেক স্ত্রী হিসেবে দেখলে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অনেকটাই অজানা থেকে যায়। একসময় ভারতের ফ্যাশনজগতের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। মডেলিং থেকে শুরু করে খেলাধুলা ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই তারকা। তবে বিচ্ছেদের পর থেকে তাঁকে অনেকটাই আড়ালে দেখা যাচ্ছে।

মিস ইন্ডিয়া থেকে সুপারমডেল

১৯৮৬ সালে ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’ খেতাব জিতে আলোচনায় আসেন মেহর জেসিয়া। একই বছর ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। সে সময় ভারতের মডেলিংশিল্প ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি লাভ করছিল। মেহর জেসিয়া, মধু সাপ্রে, ফেরোজ গুজরাল ও শ্যামোলি ভার্মার মতো মডেলরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

নিজের সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারত্বের কারণে অল্প সময়েই ভারতের প্রথম সারির সুপারমডেলদের একজন হয়ে ওঠেন মেহর। জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এবং ফ্যাশন শোতে ছিল তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি।

মডেলিংয়ের বাইরেও ছিল সাফল্য

মেহর জেসিয়ার জীবনের আরেকটি দিক অনেকের কাছেই অজানা। মডেলিংয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে খেলাধুলার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি জাতীয় পর্যায়ে স্নুকার চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন খেলেছেন এবং সাঁতারেও দক্ষতা দেখিয়েছেন।

Advertisements

খেলাধুলার অভিজ্ঞতা তাঁকে শৃঙ্খলাবোধ ও আত্মবিশ্বাস অর্জনে সহায়তা করেছিল। পরবর্তী সময়ে ফ্যাশনজগতে নিজের অবস্থান শক্ত করতেও এসব গুণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।

অর্জুন রামপালের সঙ্গে প্রেম ও সংসার

মেহর জেসিয়া ও অর্জুন রামপাল—দুজনেরই পেশাগত জীবনের শুরু মডেলিং দিয়ে। সেই সূত্রেই তাঁদের পরিচয়, যা পরে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। সে সময় অর্জুনের বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর।

বিয়ের পর দীর্ঘদিন বলিউডের আলোচিত দম্পতিদের তালিকায় ছিলেন মেহর ও অর্জুন। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান মাহিকা ও মাইরা। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাম্পত্যজীবন কাটানোর পর ২০১৮ সালে যৌথ বিবৃতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তাঁরা।

২০ বছরের সম্পর্কের ইতি, তবে সম্মান অটুট

বিচ্ছেদের ঘোষণায় মেহর ও অর্জুন জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ ও সুন্দর একসঙ্গে পথচলার পর তাঁরা এবার জীবনের ভিন্ন পথে এগিয়ে যেতে চান। তবে তাঁদের সম্পর্কের এই পরিবর্তন সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব কিংবা পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গায় প্রভাব ফেলবে না বলেও স্পষ্ট করেছিলেন তাঁরা।

কেন তাঁদের দাম্পত্যজীবনের অবসান ঘটেছিল, সে বিষয়ে দুজনের কেউই প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাননি। সে সময় ভারতীয় গণমাধ্যমে তাঁদের সম্পর্কের দূরত্ব এবং অর্জুনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব প্রতিবেদনে উঠে আসা দাবিগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেননি।

মডেলিং থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজনা

বিয়ের পর ধীরে ধীরে মডেলিং থেকে সরে এসে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় মনোযোগী হন মেহর। ২০০৬ সালে অর্জুন রামপালের সঙ্গে যৌথভাবে ‘চেজিং গণেশা’ ব্যানারে ‘আই সি ইউ’ চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন তিনি। ছবিতে অভিনয় করেন অর্জুন রামপাল, বিপাশা আগরওয়াল, সোনালি কুলকার্নি ও বোমান ইরানি।

প্রযোজক হিসেবে তাঁর কাজের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও বিনোদনজগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ফ্যাশনজগতে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচিতি এবং পরবর্তী সময়ের কাজের মধ্য দিয়ে তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

এখন কেমন কাটছে মেহরের জীবন?

বিচ্ছেদের পর মেহর জেসিয়াকে আগের মতো জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায় না। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বেশ সংযত। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতেও আগ্রহী নন তিনি। বর্তমানে ব্যবসা, পরিবার ও ব্যক্তিগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা জানা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি সীমিত।

তবে জনসমক্ষে কম দেখা গেলেও ভারতীয় ফ্যাশনশিল্পের ইতিহাসে মেহর জেসিয়ার অবদান এখনো স্মরণীয়। তিনি শুধু একজন সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিজয়ী কিংবা জনপ্রিয় মডেলই ছিলেন না; বরং সেই প্রজন্মের প্রতিনিধি, যাঁরা ভারতীয় মডেলিংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

Advertisements