২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১২ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

‘আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চেষ্টা করছেন কেন?’—প্রশ্ন তানজিন তিশার

tisha-1793181846

মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে। এর মধ্যেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও চলমান আইনি জটিলতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী। তার প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন নষ্ট করার চেষ্টা কারা করছেন এবং এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্যই বা কী।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুটি শাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির কোলাজ যুক্ত করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তানজিন তিশা। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বক্তব্যের মূল অর্থ পরিবর্তন করে সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার সম্মানহানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

পোস্টে তানজিন তিশা লেখেন, ‘এত বড় একটা পরিকল্পনা? একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা? কেন? কিসের জন্য? আর এর পেছনে কারা?’

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার বক্তব্য, অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বরং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তানজিন তিশা আরও দাবি করেছেন, এ ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর ও তথ্যপ্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তবে সেসব তথ্যপ্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করার দায়িত্ব আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

জনসাধারণের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ সামনে এলেই যাচাই-বাছাই ছাড়া তা বিশ্বাস করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি।

Advertisements

শাড়ি নিয়ে একের পর এক মামলা

তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়িসংক্রান্ত বিতর্কের সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারণার শর্তে তিশাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শাড়িটির প্রচারণা করা হয়নি। পাশাপাশি শাড়ির দামও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। তার দাবি, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন। পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন সানায়া চৌধুরী। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ অক্টোবর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, আগের মামলাটি প্রত্যাহার করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একের পর এক অভিযোগ ও মামলার ঘটনায় তানজিন তিশাকে ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরে অভিনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, তার দীর্ঘদিনের সম্মান, পেশাগত অর্জন ও ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার পেছনে কারা রয়েছেন এবং কেন এমন চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে শাড়িসংক্রান্ত অভিযোগ, হুমকির মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিশার বক্তব্য—প্রতিটি বিষয়ই সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও আইনি প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মামলার অভিযোগ থাকলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের।

Advertisements