শৈশবে চুরি করা টাকা ফেরত দেওয়ার নিয়ম কী, জানালেন আলেমরা

শৈশবে না বুঝে করা কোনো ভুলের জন্য বড় হওয়ার পর অনুশোচনায় ভোগেন অনেকে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও অজান্তে টাকা নেওয়া কিংবা অনুমতি ছাড়া কারও বাগান থেকে ফল খাওয়ার মতো ঘটনা পরবর্তী সময়ে মনে অপরাধবোধ তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতে এবং অন্যের পাওনা যথাযথভাবে ফিরিয়ে দিতে কী করা উচিত, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে।
সম্প্রতি এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, ১২-১৩ বছর বয়সের আগেই তিনি পরিবারের এক মুরুব্বির কাছ থেকে কিছু টাকা চুরি করেছিলেন। বড় হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, কাজটি অন্যায় ছিল। এরপর সরাসরি ঘটনার কথা স্বীকার না করে ওই ব্যক্তিকে জানান, তার কাছে কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। সঠিক পরিমাণ মনে না থাকায় অনুমান করে কিছু টাকা ফেরতও দেন। এখন তার প্রশ্ন, এভাবে টাকা ফেরত দেওয়ার পর তিনি পুরোপুরি দায়মুক্ত হয়েছেন কি না।
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হওয়া এবং অন্যের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
চুরির মতো অন্যায় থেকে তওবা করার ক্ষেত্রে সাধারণত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আন্তরিকভাবে তওবা করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া। তৃতীয়ত, যার সম্পদ নেওয়া হয়েছে, তার প্রাপ্য ফিরিয়ে দেওয়া।
ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলেমদের পরামর্শ হলো, ফেরত দেওয়া টাকার পরিমাণ যদি এমন হয় যে তার প্রবল ধারণা হচ্ছে, চুরি করা টাকার সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছেছে, তাহলে ইনশাআল্লাহ দায়মুক্তির আশা করা যায়।
তবে ফেরত দেওয়া টাকা অপর্যাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বাকি অংশ গোপনে, উপহার হিসেবে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে পৌঁছে দেওয়া উত্তম। এতে অন্যের পাওনা আদায় হবে এবং নিজের মনেও স্বস্তি আসবে।
এ ক্ষেত্রে বয়সের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল বালেগ হওয়ার আগেই। ইসলামী হাদিসে অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শরয়ি দায়বদ্ধতা আরোপ না করার কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে—ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩৯৮)
তবে বালেগ হওয়ার আগের ঘটনা হলেও অন্যের সম্পদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই অনুশোচনায় ভোগা ব্যক্তির উচিত যথাসাধ্য পাওনা পরিশোধ করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, ইস্তিগফার করা এবং ভবিষ্যতে অন্যের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকা।



