১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২ কার্তিক ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

হাম ও উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১২০০ ছুঁইছুঁই, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

image-409029

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ দুই কারণে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ১৯৬ শিশু। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ১ হাজার ২৫৪ শিশুর শরীরে।

দেশে শিশুদের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গজনিত অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৯৬-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ শিশু। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৯২ শিশু।

রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও অন্তত সাত শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ঢাকায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে ৪৯১ শিশু। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরলে দেখা যায়, ঢাকার পর রয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম।

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র:

Advertisements

ঢাকা: ৪৯১ জন
সিলেট: ১৯২ জন
চট্টগ্রাম: ১০০ জন
রাজশাহী: ৯৩ জন
ময়মনসিংহ: ৮৪ জন
বরিশাল: ৬৫ জন
খুলনা: ৫০ জন
রংপুর: ১৭ জন

এই পরিসংখ্যান বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও ঢাকা বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১,২৫৪ শিশুর

মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ১ হাজার ২৫৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ১২২ শিশুর হাম আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ, হামের মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া বিপুলসংখ্যক শিশুর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। উপসর্গ দেখা দেওয়া এবং পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়—এ কারণে রোগ নির্ণয় ও নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালে ভর্তি প্রায় পৌনে দুই লাখ রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৫২ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৮ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৮৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ জন।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ

শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গের বিস্তার ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং টিকাদান কর্মসূচির আওতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। আক্রান্ত শিশুর শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, খিঁচুনি কিংবা চেতনার পরিবর্তন হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের টিকাদানের অবস্থা যাচাই, বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা যখন ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি, তখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

Advertisements