৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
ধর্ম

ব্যস্ততার মাঝেও কোরআনচর্চা ধরে রাখবেন যেভাবে

kran_Wz6ymmP

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং নানা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে অনেকেরই নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নের অভ্যাসে ভাটা পড়ে। অথচ ব্যক্তিগত জীবন, আত্মিক প্রশান্তি ও নৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে কোরআন থেকে দূরে না থেকে দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেই এর চর্চা চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের পর কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী দিন পরিচালনার চেষ্টা করা হতে পারে সুন্দর একটি অভ্যাস। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমতের কথা বলা হয়েছে। সুরা নামলের ৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কোরআন মুমিনদের জন্য পথনির্দেশনা ও রহমত।

কোরআন শুধু তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এর অর্থ বোঝা, শিক্ষা অনুধাবন করা এবং জীবনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দীর্ঘ সময় বের করা সম্ভব না হলেও ছোট ছোট সময় কাজে লাগিয়ে কোরআনচর্চা অব্যাহত রাখা যায়।

ব্যস্ততার মধ্যেও কোরআনচর্চার ৭টি উপায়

১. যাতায়াতের সময় কোরআন পড়ুন

কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে অনেকের উল্লেখযোগ্য সময় যানজটে কাটে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পরিবর্তে নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে মোবাইল ফোনে কোরআন তিলাওয়াত, বাংলা অনুবাদ কিংবা নির্ভরযোগ্য তাফসির পড়া যেতে পারে। এতে সময়ের সদ্ব্যবহারের পাশাপাশি কোরআনের শিক্ষা জানার সুযোগ তৈরি হবে।

Advertisements

২. অবসরে কোরআন তিলাওয়াত শুনুন

সব সময় বই খুলে পড়ার সুযোগ হয় না। এমন পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য অ্যাপ বা অনলাইন মাধ্যম থেকে কোরআনের তিলাওয়াত শোনা যেতে পারে। দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য কারিদের তিলাওয়াত শোনার মাধ্যমে কোরআনের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখা সম্ভব। তবে গাড়ি চালানোর সময় বা মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ুন

প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজের আগে বা পরে মাত্র পাঁচ মিনিট কোরআন পড়ার জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। এভাবে প্রতিদিন নিয়মিত সময় দেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি কোনো দিন তিলাওয়াতের সুযোগ কম হলে কয়েকটি আয়াতের অনুবাদ পড়া কিংবা সংক্ষিপ্ত তাফসির অধ্যয়ন করা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো, অল্প হলেও নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যাওয়া।

৪. পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোরআনের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করুন

পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলো কোরআনচর্চার জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে। খাবারের টেবিলে বা অবসর সময়ে কোনো আয়াতের অর্থ, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনে তার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা যায়। এতে পরিবারের ছোট-বড় সবাই উপকৃত হতে পারেন। তবে আয়াতের ব্যাখ্যা ও ধর্মীয় বিধান আলোচনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তাফসির এবং যোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

৫. ঘুমানোর আগে কিছু সময় রাখুন

সারাদিন ব্যস্ত থাকার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট কোরআন তিলাওয়াতের জন্য রাখা যেতে পারে। এ সময় পরিচিত ছোট সুরাগুলোর পাশাপাশি অন্য কোনো সুরা পড়া, অর্থ জানা কিংবা ব্যাখ্যা অধ্যয়ন করা সম্ভব। ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠেরও হাদিসভিত্তিক নির্দেশনা রয়েছে।

৬. নামাজে মুখস্থ আয়াতগুলো পড়ুন

যারা কোরআনের বিভিন্ন সুরা ও আয়াত মুখস্থ করেছেন, তাঁরা নামাজে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুখস্থ ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে হাফেজদের জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ। এতে নামাজের পাশাপাশি কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

৭. কর্মস্থলের অবসর সময় কাজে লাগান

কর্মক্ষেত্রে কাজের ফাঁকে অবসর পাওয়া গেলে সেই সময়ের কিছু অংশ কোরআন তিলাওয়াত বা অর্থ বোঝার জন্য ব্যয় করা যায়। সঙ্গে ছোট কোরআন, অনুবাদগ্রন্থ কিংবা নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সংস্করণ রাখা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব ও নিয়মকানুনের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

কোরআনচর্চার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

পবিত্র কোরআন মানুষের জীবনে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও সঠিক পথের দিশা দেয়। নিয়মিত তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ বোঝা এবং শিক্ষাগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে পারেন।

সুরা মায়িদার ১৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারীদের শান্তির পথে পরিচালিত করা এবং অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, সুরা তাওবার ১২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কোরআনের সুরা অবতীর্ণ হলে তা মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি করে।

তাই ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন কিছু সময় কোরআনের জন্য নির্ধারণ করা, এর অর্থ অনুধাবন করা এবং শিক্ষা অনুসারে জীবন গঠনের চেষ্টা করা জরুরি। অল্প সময় দিয়ে শুরু করলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে কোরআনচর্চা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements