রাসুল (সা.) নিজ হাতে ঘরের কাজ করতেন, স্ত্রীদের প্রতি দিয়েছেন সহযোগিতার শিক্ষা

দাম্পত্য জীবন স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের সম্পর্ক। ইসলামে এ সম্পর্কে উভয়ের অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। স্ত্রী সংসারের কাজে যে সহযোগিতা করেন, তা তার ভালোবাসা ও পরিবারের প্রতি আন্তরিকতার প্রকাশ। তাই এসব কাজকে শুধু স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে স্বামীরও সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা উচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এর সুন্দর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তিনি বহু দায়িত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ঘরের কাজে নিজ হাতে সহযোগিতা করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন, কাপড় সেলাই করতেন এবং বাড়ির অন্যান্য কাজও করতেন। (ইবনে হিববান, হাদিস: ৬৪৪০)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণ মানুষের মতোই নিজের কাজ নিজে করতেন। তিনি নিজের কাপড় পরিষ্কার করতেন, ছাগলের দুধ দোহন করতেন এবং নিজের প্রয়োজনীয় কাজ নিজেই সম্পন্ন করতেন। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীগণও কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের অপেক্ষা না করে স্বেচ্ছায় ঘরের কাজ করতেন। তবে রাসুল (সা.) নিজে এসব কাজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণের বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।’ (তিরমিজি)
আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। তার কোনো একটি স্বভাব অপছন্দ হলে অন্য কোনো স্বভাব তার পছন্দ হতে পারে। (মুসলিম)
নারীদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। বিদায় হজের সময় দেওয়া ভাষণেও স্ত্রীদের অধিকার ও তাদের প্রতি পুরুষের দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে তাই দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। সংসারের কাজকে শুধু একজনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথই তার সুন্নাহতে প্রতিফলিত হয়েছে।



