৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক নিখোঁজ

brahmonbaria-hospital-091026-01

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে দুই দিন বয়সী এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। অন্য রোগীর স্বজন পরিচয়ে এক নারী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নবজাতককে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিখোঁজ শিশুটি বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান। বিয়ের তিন বছর পর সন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ ছিল। কিন্তু হাসপাতাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর সেই আনন্দ পরিণত হয়েছে উৎকণ্ঠা ও কান্নায়।

সংগৃহীত

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রসবব্যথা নিয়ে গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন মরিয়ম বেগম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর শিশুটিকে নিয়ে পরিবারের সবাই আনন্দে ছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী অন্য রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে মরিয়ম ও তার মা মমতাজ বেগমের সঙ্গে পরিচিত হন। কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে নবজাতকের নানি টয়লেটে গেলে মরিয়ম পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এ সময় সাহায্য করার কথা বলে ওই নারী শিশুটিকে কোলে নেন।

এরপর শিশুটিকে নিয়ে ওয়ার্ডের গেটের দিকে এগিয়ে যান ওই নারী। মরিয়ম তাকে আবার কক্ষে ফিরে আসতে বললেও অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও নবজাতক ও ওই নারীর সন্ধান পাননি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তারা ঘটনার বিস্তারিত জানার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ওই নারীকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত ও শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Advertisements

সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন নবজাতকের মা মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, বিয়ের তিন বছর পর তার প্রথম পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। ওই নারী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে—তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন মরিয়ম। তিনি দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে তার কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার ও পুলিশের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

নবজাতকের বাবা শামীম মিয়াও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের মতো জায়গা থেকে কীভাবে একটি নবজাতক চুরি হতে পারে, সে প্রশ্ন তুলে তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে রোগী ও তদের স্বজনদের প্রচুর ভিড় থাকে। নবজাতক চুরির খবর পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। তার মতে, স্বজনদের অসচেতনতার কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, সেখানে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য মোতায়েন থাকলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো। এ ছাড়া হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুরোনো ক্যামেরা পরিবর্তন করে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ নবজাতকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আশপাশের লোকজনের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, নবজাতককে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করা এবং শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নবজাতক চুরির এ অভিযোগ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সন্তান হারিয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেবে।

Advertisements