২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
ধর্ম

বিয়ের ১০ উপকারিতা, কী বলছে কোরআন-হাদিস

muslim-wedding

ইসলামে বিয়েকে শুধু সামাজিক বন্ধন হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এটি মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল করা, চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা এবং পরিবার গঠনের একটি বৈধ ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোরআন ও হাদিসে দাম্পত্য সম্পর্ককে ভালোবাসা, মমতা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো—

১. দ্বীন ও চরিত্র রক্ষায় সহায়ক

বিয়ে মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাদিসে সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কারণ বিয়ে মানুষের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজতে সহায়তা করে। এ কারণে বিয়েকে দ্বীন ও চরিত্র রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. নবী-রাসুলদের সুন্নাহ অনুসরণ

বিয়ে নবী-রাসুলদের জীবনাচারের অন্যতম অংশ। মহানবী (সা.) নিজে বিবাহিত জীবনযাপন করেছেন এবং সামর্থ্যবানদের বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাই ইসলামি জীবনব্যবস্থায় বিয়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

Advertisements

৩. অবৈধ সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা

মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে ইসলাম অস্বীকার করেনি; বরং তা পূরণের বৈধ পথ হিসেবে বিয়েকে নির্ধারণ করেছে। দাম্পত্য সম্পর্ক মানুষকে অবৈধ যৌন সম্পর্ক ও নানা ধরনের পাপাচার থেকে নিজেকে সংযত রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে রোজা রাখার পরামর্শও হাদিসে এসেছে।

৪. ভালোবাসা ও মমতা তৈরি হয়

কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে ভালোবাসা ও দয়ার কথা বলা হয়েছে। সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও মমতা সৃষ্টি করেছেন। পারস্পরিক এই অনুভূতি দাম্পত্য বন্ধনকে দৃঢ় করতে সহায়তা করে।

৫. দাম্পত্য জীবনে প্রশান্তি আসে

বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি লাভ করা। কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে এমন একটি বন্ধন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষ তার সঙ্গীর কাছে স্বস্তি ও শান্তি খুঁজে পায়। তাই আদর্শ দাম্পত্য শুধু একসঙ্গে বসবাস নয়, বরং শান্তি ও পারস্পরিক যত্নের সম্পর্ক।

৬. একে অপরের জন্য নিরাপত্তার আশ্রয়

সুরা আল-বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের পোশাকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পোশাক যেমন মানুষকে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখে, তেমনি জীবনসঙ্গীরাও একে অপরের দুর্বলতা আড়াল করা, বিপদে পাশে থাকা এবং মানসিক নিরাপত্তা দেওয়ার ভূমিকা পালন করতে পারেন।

৭. রিজিক ও কল্যাণের আশায় বিয়ে

সুরা আন-নুরের ৩২ নম্বর আয়াতে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি বলা হয়েছে, তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে বিয়েকে ঘিরে অতিরিক্ত আর্থিক ভয় না রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের পর প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিশ্চিত।

৮. বৈধ পরিবার ও বংশধারা প্রতিষ্ঠা

বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার গড়ে ওঠে এবং সন্তান-সন্ততির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্ম লাভের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানদের সঠিক নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে পরিবার থেকে সমাজেও কল্যাণের ধারা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৯. নেককার জীবনসঙ্গী ইবাদতে সহায়তা করেন

ইসলামে নেককার জীবনসঙ্গীর মর্যাদা অনেক বেশি। হাদিসে নেককার স্ত্রীকে দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন ধার্মিক ও নীতিবান জীবনসঙ্গী পারিবারিক শান্তির পাশাপাশি আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকাজে একে অপরকে উৎসাহিত করতে পারেন।

১০. নেককার সন্তানের দোয়া মৃত্যুর পরও উপকার করে

সন্তান যদি সৎ ও নেককার হিসেবে বেড়ে ওঠে, তার দোয়া বাবা-মায়ের জন্য মৃত্যুর পরও কল্যাণের কারণ হতে পারে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এমন নেককার সন্তানের কথা বলা হয়েছে, যে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করে। তাই ইসলামি দৃষ্টিতে সন্তান প্রতিপালন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং পরকালীন কল্যাণেরও একটি মাধ্যম হতে পারে।

Advertisements