৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

হুইলচেয়ার থামাতে পারেনি স্বর্ণার স্বপ্ন, এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অপেক্ষা

IMG_5977

২০২০ সালের এক দুর্ঘটনার পর হাঁটার সক্ষমতা হারান পাবনার তরুণী স্বর্ণা খাতুন। তবে হুইলচেয়ার তার জীবনের গতি থামিয়ে দিতে পারেনি। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। পরে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজডে (সিআরপি) মেডিকেল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে অর্জন করেন পেশাগত সনদ।

কৃষক পরিবারের সন্তান স্বর্ণার বেড়ে ওঠা পাবনায়। দুর্ঘটনার পর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ অনেকটাই বদলে গেলেও তিনি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করেন এমন একটি দক্ষতা, যা দিয়ে এখন অন্য মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও ভূমিকা রাখছেন।

বর্তমানে সিআরপির প্যাথলজি বিভাগে হুইলচেয়ারে বসেই কাজ করছেন স্বর্ণা। রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহসহ বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন তিনি। সিআরপির প্যাথলজি বিভাগে রক্ত সংগ্রহের পাশাপাশি হেমাটোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি ও মাইক্রোবায়োলজিসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করা হয়।

তবে দক্ষতা অর্জনের পরও স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথ তার জন্য সহজ হয়নি। একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন স্বর্ণা। সেখানে মেধাক্রমে সপ্তম স্থানও অর্জন করেন তিনি। কিন্তু কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও প্রয়োজনীয় প্রবেশগম্যতার সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি।

স্বর্ণার এই অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়, শুধু প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করলেই হয় না, কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি। হুইলচেয়ারে চলাচলকারী একজন দক্ষ কর্মী কাজ করতে সক্ষম হলেও উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবে অনেক সময় চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

বর্তমানে স্বর্ণার লক্ষ্য একটি স্থায়ী চাকরি পাওয়া। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত আয় করতে চান তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলতে চান।

Advertisements

দুর্ঘটনার পর হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছেন, কিন্তু থেমে যাননি স্বর্ণা। হুইলচেয়ারকে জীবনের পরিচয় না বানিয়ে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসকে শক্তি করে এগিয়ে চলেছেন তিনি। এখন তার অপেক্ষা শুধু এমন একটি কর্মসংস্থানের, যেখানে শারীরিক সীমাবদ্ধতার বদলে তার যোগ্যতা ও দক্ষতাই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।

Advertisements