৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

পোস্ট দিয়ে ইলন মাস্কের উচ্ছ্বাস, বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু

DinajpurTV News

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, উপকূল কিংবা সাগরের গভীরে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দিন হয়তো ধীরে ধীরে শেষ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে চালু হয়েছে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা। এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্পেসএক্সের বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের প্রধান স্টেফানি বেডনারেকের একটি পোস্ট পুনঃপ্রকাশ করে ইলন মাস্ক লেখেন, ‘Starlink connecting Bangladesh!’ সংক্ষিপ্ত এই বার্তার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে স্টারলিংকের নতুন মোবাইল সংযোগসেবার যাত্রা নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

স্টেফানি বেডনারেক জানিয়েছেন, স্টারলিংক মোবাইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাখো মানুষ এমন এলাকায়ও অতিরিক্ত সংযোগ সুবিধা পাবেন, যেখানে প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্কের কাভারেজ নেই। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে উপকূল ও সমুদ্রসীমায় থাকা মানুষের জন্য যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্টারলিংকের এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে গেলেও উপগ্রহের মাধ্যমে মোবাইল ফোনকে সংযুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি করা। ফলে কোনো ব্যক্তি এমন এলাকায় থাকলেও, যেখানে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না, সেখান থেকেও নির্দিষ্ট যোগাযোগসেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশে এই সেবা চালু হয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সঙ্গে স্টারলিংকের চুক্তির মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সামঞ্জস্যপূর্ণ চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের সিম ব্যবহারকারীরা প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও বার্তা পাঠানো, অবস্থান জানানো এবং প্রয়োজনীয় কিছু যোগাযোগসেবা ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সমুদ্রে থাকা জেলে, নৌযানকর্মী, পর্যটক, ভ্রমণকারী কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা মানুষের জন্য নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রচলিত মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প সংযোগ হিসেবে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই প্রযুক্তি জরুরি যোগাযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

Advertisements

বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের গভীর সমুদ্র এলাকাতেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভাবনাময়। কারণ এসব এলাকায় অনেক সময় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের কাভারেজ পাওয়া যায় না। সেখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন ও সিম থাকলে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও অবস্থানভিত্তিক সেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এমন সেবা চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রথম দিকের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ফলে দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্টারলিংকের এই উদ্যোগকে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আকাশপথে ঘুরে বেড়ানো উপগ্রহ এবার যেন মুঠোফোনের নেটওয়ার্কের সীমানাও আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল।

Advertisements