৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে ৪০ ঘণ্টায় ১৫ হাজার কিলোমিটার, ভক্তের অবিশ্বাস্য ছুটে চলা

a778c5ff31c195c2fbd647a423f2c7f7-6ac7734039696

কখনো কখনো প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেটি মানুষকে এমন কিছু করতে প্রেরণা দেয়, যা শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হয়। লিওনেল মেসির এক ভারতীয় ভক্তের গল্পটিও ঠিক তেমন। প্রিয় ফুটবলারের জাতীয় দলের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখবেন—এই এক ইচ্ছায় প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন কেরালার ইকবাল।

ভারতের কেরালার কোদুনগালুরের বাসিন্দা ইকবালের যাত্রা শুরু হয়েছিল সড়কপথে। নিজের গ্রাম থেকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ভ্রমণ করে তিনি পৌঁছান বেঙ্গালুরুতে। এরপর বিমানে লন্ডন, সেখান থেকে নিউইয়র্ক হয়ে শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য ছিল আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রায় তার লক্ষ্য ছিল একটাই—জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটি নিজের চোখে দেখা।

৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি তাই ইকবালের কাছে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ছিল এক যুগের স্মৃতিকে সামনে থেকে বিদায় জানানোর সুযোগ। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পঞ্চম সারিতে বসে মেসির শেষ ম্যাচের সাক্ষী হন ইকবাল। তবে এই যাত্রা ছিল না ঝুঁকিমুক্ত। ম্যাচের টিকিট তিনি অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারেননি। টিকিট হাতে না থাকলেও যাত্রা থামাননি। বরং বিশ্বাস রেখেছিলেন, কোনো না কোনোভাবে স্টেডিয়ামে ঢোকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

শেষ পর্যন্ত তার সেই বিশ্বাসই সত্যি হয়। আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনর্বিক্রির বাজার থেকে একটি টিকিট পান তিনি। তবে এর জন্য দিতে হয়েছে ১ হাজার মার্কিন ডলার—মূল দামের প্রায় তিন গুণ। ইকবালের কাছে অবশ্য সেই অর্থও খুব বড় মনে হয়নি। কারণ, যে মানুষটির জন্য এতটা পথ পাড়ি দেওয়া, তার শেষ ম্যাচটি সামনে থেকে দেখার সুযোগই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেসির প্রতি ইকবালের ভালোবাসা অবশ্য আজকের নয়। আর্জেন্টিনা ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর নিজের বাড়ির কাছেই মেসিকে নিয়ে ৩২ মিটার লম্বা ও ২০ ফুট চওড়া একটি ম্যুরাল তৈরি করিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মেসির ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সাফল্যের মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।

আরও বিস্ময়ের বিষয়, চলতি বছরের জুনে ইকবালের জন্মদিন উপলক্ষে মেসি তার সেই ম্যুরালটি ইনস্টাগ্রামে দেখেছিলেন। প্রিয় তারকা নিজের তৈরি ম্যুরাল দেখেছেন—ইকবালের কাছে সেটিই ছিল জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। মেসির বিদায়ী ম্যাচে মাঠের এত কাছে বসতে পেরেও আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। তার ভাষায়, গ্যালারি থেকে মেসির দূরত্ব ছিল মাত্র প্রায় ১০ মিটার। জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে সেই দৃশ্যকে মনে রাখবেন তিনি।

ইকবাল মনে করেন, ২০২২ বিশ্বকাপে মেসিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে দেখার পর তার আর কোনো চ্যালেঞ্জকেই খুব বড় মনে হয় না। সেই সময়ও তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, মেসি যেন বিশ্বকাপ জিততে পারেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার প্রিয় তারকার জাতীয় দলের শেষ ম্যাচটিও নিজের চোখে দেখলেন।

Advertisements

মেসির বিদায়ী মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ইকবালের উপলব্ধি আরও আবেগঘন। হয়তো ভবিষ্যতে কিংবদন্তি মেসিকে আবারও কোনো ম্যাচে দেখা যাবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সেই পরিচিত দৃশ্য আর ফিরবে না।

তাই ১৫ হাজার কিলোমিটারের পথ, ৪০ ঘণ্টার যাত্রা কিংবা তিন গুণ দামে কেনা টিকিট—কোনোটিই তার কাছে আফসোসের নয়। কারণ, ভালোবাসার মানুষটির শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের একটি মুহূর্ত নিজের চোখে দেখার জন্য তিনি যে মূল্য দিয়েছেন, তার কাছে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Advertisements