৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম নিজস্ব চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’

Untitled-16-6abfba177a40e (1)

মহাকাশ গবেষণায় এবার আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে পাকিস্তান। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজস্ব চন্দ্র রোভার তৈরি করছে পাকিস্তান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিন্নাহ-১’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের চাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালে রোভারটিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানো হবে।

ওয়ার্ল্ড স্পেস উইক পাকিস্তান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ কমিশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, শুধু চন্দ্র অভিযান নয়, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান।

সুপারকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের পর বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। চাঁদের মাটি, ভূপ্রকৃতি এবং সেখানকার মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে রোভারটি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষাও চালানো হবে। চীনের সঙ্গে মহাকাশ সহযোগিতাই পাকিস্তানের এই নতুন অভিযানের অন্যতম ভিত্তি। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে চীনের চাং’ই-৬ চন্দ্র অভিযানের সঙ্গে ‘আইকিউব-কামার’ নামে একটি চন্দ্র স্যাটেলাইট পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। সেটিই ছিল দেশটির প্রথম চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো স্যাটেলাইট। এবার সেই অভিজ্ঞতার পর আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে রোভার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

তবে পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচি শুধু চাঁদকেন্দ্রিক নয়। দেশের কৃষি, নগর পরিকল্পনা, পানিসম্পদ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সুপারকোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছয়টি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট এসব কাজে সহায়তা করছে।

দূর অনুধাবন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি সম্পদের অবস্থা, পানিসম্পদ, পরিবেশের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে মহাকাশ প্রযুক্তি এখন পাকিস্তানের জন্য শুধু গবেষণার বিষয় নয়; দেশের দৈনন্দিন উন্নয়ন পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতেও সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে দেশটি। সুপারকোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণ করা ইও-২ স্যাটেলাইটটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় নিজস্ব পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট এবং জাতীয় পৃথিবী পর্যবেক্ষণ বহরের ষষ্ঠ সদস্য।

Advertisements

মহাকাশ স্টেশনের পথেও পাকিস্তান

চাঁদের পাশাপাশি মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। চীনের মহাকাশ স্টেশনে দেশটির প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর লক্ষ্যে বর্তমানে দুই পাকিস্তানি প্রার্থী চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জিশান আলী ও খুররম দাউদ নামের এই দুই প্রার্থী বেইজিংয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে রয়টার্সের সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করার কথা রয়েছে।

নির্বাচিত মহাকাশচারী ভবিষ্যতে চীনের মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। চীনের মানব মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় এই কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে সুপারকো।

অর্থাৎ, চাঁদের মাটিতে রোভার পাঠানো থেকে শুরু করে মহাকাশ স্টেশনে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি—পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচি এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ‘জিন্নাহ-১’ সফলভাবে চাঁদে পৌঁছাতে পারলে দেশটির মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে সেটি হবে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

Advertisements