৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

৫৫০ বছরের পুরোনো হাওয়াইয়ের ‘হোলেই সি আর্চ’ ধসে পড়েছে

f66c7ae7-ee40-46a0-85d0-20418532

প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী ধরে হাওয়াইয়ের উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত প্রাকৃতিক স্থাপনা ‘হোলেই সি আর্চ’ আর নেই। লাভার পাথরে তৈরি প্রায় ৯০ ফুট বা ২৭ দশমিক ৪ মিটার উঁচু এই বিশাল প্রাকৃতিক খিলানটি ধসে প্রশান্ত মহাসাগরের পানিতে পড়ে গেছে।

হাওয়াইয়ের ভলকানোস জাতীয় উদ্যানের অন্যতম পরিচিত আকর্ষণ ছিল হোলেই সি আর্চ। পর্যটকদের কাছে এটি ছিল জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান এবং বহু বছর ধরে এই প্রাকৃতিক কাঠামোর ছবি তুলতে ভিড় করতেন দর্শনার্থীরা।

তবে ঠিক কবে আর্চটি ধসে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভলকানোস জাতীয় উদ্যানের উপকূল থেকে হোলেই সি আর্চটি দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বর সেটি আর দেখা যায়নি।

এনপিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সি আর্চটির দুই পাশের উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙন ও অস্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। এ কারণে ২০২১ সালেই পার্ক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছিল যে, প্রাকৃতিক এই কাঠামোটি একসময় ভেঙে সমুদ্রে পড়ে যেতে পারে।

হাওয়াইয়ের ‘বিগ আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত দ্বীপের চেইন অব ক্রেটার্স রোডের শেষ প্রান্তের কাছে ছিল হোলেই সি আর্চ। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের ঢেউ, বৃষ্টি, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের প্রভাবে আশপাশের পাথুরে ভূখণ্ডে পরিবর্তন ঘটছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলোর কারণে ভলকানোস জাতীয় উদ্যান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের প্রবল ঢেউ বা প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মধ্যেই হোলেই সি আর্চের পতন ঘটে থাকতে পারে। তবে এনপিএস এখনো ধসের নির্দিষ্ট কারণ বা সময় নিশ্চিত করেনি।

Advertisements

এর আগেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আর্চটির আশপাশের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালে কিলাউইয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পরবর্তীতে এর চূড়ার অংশ ধসে পড়ার সময় সৃষ্ট ভূমিকম্পে সি আর্চের কাছের খাড়া পাহাড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে নতুন ফাটল দেখা দেয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অস্থিতিশীলতা বাড়ায় পার্ক কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য আর্চটির মূল ভিউপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়। কয়েক মাস পর নিরাপদ দূরত্বে নতুন একটি দর্শন এলাকা তৈরি করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

প্রাকৃতিক ক্ষয়ও ধীরে ধীরে আর্চটির স্থায়িত্ব কমিয়ে দিচ্ছিল। ওই বছরের পর একটি ট্রপিক্যাল স্টর্মের সময় সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ আর্চটির নিচের অংশ থেকে বড় একটি পাথরের খণ্ড ভেঙে নিয়ে যায়। এর ফলে কাঠামোটির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০২১ সালে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছিল, হোলেই সি আর্চ দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এটি স্থায়ী কোনো কাঠামো নয়। প্রাকৃতিক ক্ষয় ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে একসময় এটি ধসে পড়বে—এমন আশঙ্কার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।

পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, হাওয়াইয়ের উপকূলীয় ভূপ্রকৃতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। একটি প্রাকৃতিক কাঠামো হারিয়ে গেলেও সময়ের সঙ্গে পাহাড় ও উপকূলের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো পাথুরে আকৃতি বা কাঠামো তৈরি হতে পারে।

হোলেই সি আর্চ ধসে পড়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই সেখানে আর্চটি দেখতে যাওয়ার স্মৃতি এবং তোলা পুরোনো ছবি শেয়ার করেছেন। পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত এই প্রাকৃতিক স্থাপনাটি হারিয়ে যাওয়ায় অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

হোলেই সি আর্চের পতন আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির তৈরি সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক স্থাপনাগুলোও চিরস্থায়ী নয়। সমুদ্রের ঢেউ, আবহাওয়া, ভূমিকম্প ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সময়ের সঙ্গে এসব কাঠামোর আকৃতি বদলে দিতে পারে কিংবা একসময় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

Advertisements