রাঘবের কোন গুণে মুগ্ধ হয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলান পরিণীতি?

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাজনীতিবিদ রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তবে রাঘবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে পরিণীতি জানিয়েছিলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনীতিবিদকে বিয়ে করবেন না। নিজের এমন অবস্থান থেকে পরে কেন সরে এসেছিলেন, রাঘবের কোন গুণ তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে প্রভাবিত করেছিল—এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল ছিল।

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ সিনেমার প্রচারণায় অংশ নিয়ে নিজের দাম্পত্য জীবন ও রাঘব চাড্ডার সঙ্গে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন পরিণীতি। সেখানে তিনি জানান, তাদের সম্পর্ককে বিশেষ করে তুলেছে পারস্পরিক সমতা, বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত জীবনকে পেশাগত পরিচয় থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা।
পরিণীতির ভাষ্য অনুযায়ী, রাঘবের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই বেশ কিছু ভিন্নতা ছিল। দুজনের বসবাসের শহর আলাদা, পেশা আলাদা এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রও ভিন্ন। পরিণীতি থাকেন মুম্বাইয়ে এবং যুক্ত রয়েছেন বিনোদন জগতের সঙ্গে। অন্যদিকে রাঘব থাকেন দিল্লিতে এবং তার পেশা রাজনীতিকেন্দ্রিক।

পরিণীতি বলেন, ‘রাঘব ও আমার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বেশি ছিল। সে দিল্লিতে থাকে, আর আমি মুম্বাইয়ে। আমরা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষ। আমি বিনোদন জগতের, আর রাঘব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’
অভিনেত্রী জানান, তাদের বিয়ের মাধ্যমে শুধু দুজন মানুষের সম্পর্কই তৈরি হয়নি, বরং দুটি ভিন্ন পরিবারেরও সংযোগ ঘটেছে। একদিকে রাজনৈতিক পরিবার, অন্যদিকে ব্যবসায়ী পরিবার—দুই ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা হলেও সম্পর্কের শুরু থেকেই তারা একটি বিষয় পরিষ্কার করে নিয়েছিলেন। একসঙ্গে সংসার করতে হলে দুজনকেই সমান মর্যাদা দিতে হবে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো একজনকে অন্যজনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।
পরিণীতির মতে, তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো পারস্পরিক সমতা। তিনি মনে করেন, একসঙ্গে জীবন কাটাতে হলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে দুজনের সমান অংশগ্রহণ এবং একে অপরের প্রতি সম্মান থাকা প্রয়োজন।
বলিউডের অনেক তারকা দম্পতির উদাহরণ টেনে পরিণীতি বলেন, অনেক সময় পেশাগত জীবনের চাপ, পরিচিতি ও ব্যস্ততা ব্যক্তিগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে দম্পতির স্বাভাবিক কথাবার্তা কিংবা আচরণেও পেশাগত জীবনের প্রভাব চলে আসে। তবে রাঘবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা শুরু থেকেই এ বিষয়টি এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

পরিণীতির কথায়, ‘অনেক তারকা দম্পতিকে দেখেছি, যারা নিজেদের পেশাগত জীবনের চাপ ও পরিচয় ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যেও নিয়ে আসেন। ফলে তাদের কথাবার্তা কিংবা আচরণেও পেশাগত জীবনের প্রভাব দেখা যায়।’
নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে পরিণীতি আরও বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন। তারকা কিংবা রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতির পরিবর্তে তারা নিজেদের সাধারণ দম্পতি হিসেবেই দেখতে চান। এ কারণে ব্যক্তিগত জীবনে যতটা সম্ভব সাধারণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করার নিয়ম করেছেন তারা।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ব্যক্তিগত জীবনে আমরা খুব পরিষ্কার ছিলাম। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন খুব স্বাভাবিক থাকবে। একজন দম্পতি যতটা সাধারণ, সাদামাটা ও একঘেয়ে হতে পারে, আমরা ততটাই থাকব। এছাড়া যখন সে বাইরে থাকে, আমি বাড়িতে থাকি। আবার যখন আমি বাইরে থাকি, সে বাড়িতে থাকে।’
পরিণীতি জানান, তাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলেও সেটি যেন একে অপরকে অসমভাবে দেখার কারণে না হয়, সে বিষয়েও তারা সচেতন। সংসার পরিচালনা, সন্তান পালন, দৈনন্দিন জীবনযাপন কিংবা দুজনের পেশাগত ব্যস্ততার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার বিষয়টি তারা সমানভাবে গুরুত্ব দেন।
তার মতে, দাম্পত্য সম্পর্কে শুধু ভালোবাসা থাকলেই হয় না; বরং দুজনের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, একে অপরের কাজ ও ব্যস্ততাকে বোঝা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। রাঘবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা শুরু থেকেই এমন একটি বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
পরিণীতি আরও জানান, তার নিজেরও একটি নির্দিষ্ট স্বপ্ন ছিল জীবনসঙ্গীকে ঘিরে। তিনি এমন একজন মানুষকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, যিনি নিজের ক্ষেত্রে সফল হবেন, তার ব্যস্ত ও কিছুটা পাগলাটে জীবনযাপন বুঝতে পারবেন, আবার একই সঙ্গে বিনয়ীও থাকবেন। পাশাপাশি তিনি চেয়েছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এবং জীবনের সাধারণ বিষয়গুলোকে মূল্য দিতে জানেন।

পরিণীতির দাবি, রাঘবের মধ্যে তিনি নিজের প্রত্যাশার এসব গুণই খুঁজে পেয়েছেন। তাই রাজনীতিবিদকে বিয়ে না করার পুরোনো সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বদলে ফেলেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘রাঘবের মধ্যে আমি সবকিছুই পেয়েছি।’
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের পর পরিণীতি চোপড়া ও রাঘব চাড্ডা ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর ছেলে সন্তানের বাবা-মা হন। তাদের ছেলের নাম রাখা হয়েছে ‘নীর’। দুজনের নামের সমন্বয়েই সন্তানের এই নাম রাখা হয়েছে বলে জানা যায়।



