২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

রাত হলেই বাড়ে বিষণ্ণতা? জেনে নিন কেন

IMG_5393

রাত নামলেই হঠাৎ মন খারাপ, উদ্বেগ কিংবা একাকীত্ব ঘিরে ধরে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। দিনের ব্যস্ততায় কাজ ও মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভালো থাকলেও রাতে একা হলেই আবেগগুলো যেন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তবে রাতে মনমরা লাগলেই যে কেউ বিষণ্ণতায় ভুগছেন, এমনটা নয়।

রাতের নীরবতা, শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি, একাকীত্ব, ঘুমের অনিয়ম এবং অতিরিক্ত চিন্তা—সব মিলিয়ে রাতের দিকে নেতিবাচক অনুভূতি বাড়তে পারে। দিনের ব্যস্ততায় যেসব চিন্তা মাথায় জায়গা পায় না, রাতে সেই একই উদ্বেগ, অনুশোচনা বা অমীমাংসিত বিষয়গুলো বেশি করে মনে পড়তে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শরীরের ২৪ ঘণ্টার সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি। এটি ঘুম, হরমোন ও মেজাজকে প্রভাবিত করে। দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় কঠিন আবেগ সামলানোও তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। আবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়ায় একাকীত্বের অনুভূতিও বাড়তে পারে।

রাতে মন খারাপ কমাতে কয়েকটি অভ্যাস কাজে লাগতে পারে—

ঘুমের আগে নিজেকে শান্ত করুন

কাজ কিংবা ব্যস্ততার পরপরই বিছানায় না গিয়ে ঘুমের আগের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট শান্তভাবে কাটানোর চেষ্টা করুন। বই পড়া, হালকা গান শোনা, গোসল করা কিংবা কিছুক্ষণ ফোন ছাড়া বসে থাকা মনকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।

Advertisements

রাতে সমস্যার সমাধান করতে বসবেন না

মাঝরাতে দুশ্চিন্তা করলে ছোট সমস্যাও অনেক বড় মনে হতে পারে। কোনো বিষয় মাথায় ঘুরতে থাকলে সেটি লিখে রাখুন। পরদিন কী করতে হবে, তার একটি ছোট তালিকা করে আপাতত চিন্তাটি পাশে সরিয়ে রাখুন।

ঘুমের সময় ঠিক রাখুন

প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। ঘুমের অনিয়মিত অভ্যাস দুর্বল মানসিক সুস্থতা এবং বিষণ্ণতার উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও গবেষণায় দেখা গেছে।

রাতে নেতিবাচক কনটেন্ট এড়িয়ে চলুন

ঘুমানোর আগে তর্ক-বিতর্ক, বিরক্তিকর খবর কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট স্ক্রল করা মনকে আরও উত্তেজিত করে তুলতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মধ্যে ছোট হলেও তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই স্ক্রলিংয়ের বদলে রাতে তুলনামূলক শান্ত কোনো কাজে সময় দেওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজনে কারও সঙ্গে কথা বলুন

রাতে মন খারাপের পেছনে একাকীত্ব কাজ করলে বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে ফোনে বা মেসেজে যোগাযোগ করতে পারেন। দীর্ঘ আলোচনা জরুরি নয়—দিনের কিছু কথা বলা কিংবা শুধু খোঁজখবর নেওয়াও একাকীত্বের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে রাতে মন খারাপের প্রবণতা যদি নিয়মিত হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দৈনন্দিন জীবন ও ঘুমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

Advertisements